অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: চাকরির শর্ত, দাবিদাওয়া আলাদা। পেশাগত সমস্যাও ভিন্ন। সেই কারণে তৃণমূল অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কর্মচারী ফেডারেশন ভেঙে পৃথক সংগঠন চাইছে সরকারি পলিটেকনিক কলেজগুলির অধ্যাপক মহল। অনেকেই স্বতন্ত্র সংগঠন চাইছেন। একটা অংশ অবশ্য ওয়েবকুপার সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার পক্ষে। ভিতরে ভিতরে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বা ওয়েবকুপার অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও খবর। এই ভাগাভাগির প্রয়োজন অবশ্য দেখছেন না ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক। তবে তৃণমূলের অন্য সংগঠনে কেউ যেতে চাইলে আপত্তিও নেই বলে জানাচ্ছেন তিনি।
অধ্যাপকদের বক্তব্য, ফেডারেশন করার কথা মূলত গ্রুপ বি, সি এবং ডি শ্রেণিভুক্ত কর্মীদের। যে কোনও বিভাগেই এই স্তরের কর্মীদের নিয়োগ পদ্ধতি, কাজের নিয়মাবলি, পেশাগত দাবিদাওয়া এক বা একই ধরনের। সেই জায়গায় পলিটেকনিকের অধ্যাপকরা গ্রুপ এ র্যাঙ্কের আধিকারিকদের সমতুল। কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এআইসিটিই’র অধীনে তাঁদের বেতন এবং সার্ভিস রুলের বিষয়গুলি নির্দিষ্ট। নিয়োগ হয় পিএসসির মাধ্যমে। এই স্বাতন্ত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা যেন ফেডারেশনের অধীন বিভিন্ন সংগঠনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণেই পৃথক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তাঁরা।
ফেডারেশনের অধীন পলিটেকনিকের শাখাটি অধ্যাপক বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন। অভিযোগ, তিনিই অধ্যাপকদের জোর করছেন ফেডারেশনে থেকে যেতে। যদিও এই বিক্রমবাবুর দাবি, ‘কাউকে জোর করা হয়নি। সবাই ভালোবেসেই আছেন।’ এদিকে, ৭৯টি সরকারি এবং দু’টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত পলিটেকনিক মিলিয়ে অধ্যাপক, আধিকারিক সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এই বিশাল সংখ্যক সদস্য যে কোনও সংগঠনেরই শক্তি। এঁরা পৃথক হয়ে গেলে কী হবে? প্রতাপবাবু বলেন, ‘কারা দাবি করছেন, জানি না। তবে ৮০ শতাংশ পলিটেকনিক শিক্ষকই ফেডারেশনের অধীনে রয়েছেন। তাঁদের মতোই রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষকদের সংগঠনও। এছাড়া ফুড ইনসপেক্টর, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরা, বিভিন্ন দপ্তরের গ্রুপ এ অফিসার, উপসচিব, সহ সচিব, এমনকী যুগ্ম সচিবরাও রয়েছেন। তাঁদের তো কোনও সমস্যা হচ্ছে না।’ যদিও একই সঙ্গে তিনি যোগ করছেন, ‘ওয়েবকুপাও তৃণমূল শিক্ষাসেলেরই অংশ। মা-মাটি-মানুষের ছাতার তলায় অন্য সংগঠনে কেউ গেলে আমাদের আপত্তি নেই।’
ফেডারেশনের অধীনে না থাকা ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ পলিটেকনিক লেকচারার্স অ্যাসোশিয়েশনের শীর্ষনেতা শৈবাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা সময়ের দাবি। আমাদের নেতা, মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ব্রাত্য বসুর সঙ্গে কথা বলবেন। ওয়েবকুপার সদস্যরা অধিকাংশই ইউজিসির অধীন। এআইসিটিই’র সঙ্গে তার পার্থক্য রয়েছে। তবে আমাদের বিশেষ আপত্তি নেই।’ ফেডারেশনের একটা বড় অংশই আবার পৃথক সংগঠনের পক্ষপাতী। তবে এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্ব সায় দেয় কি না, সেটাই দেখার।