নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুলের উৎপাদন এবার ভালো। তাই বাসন্তী, অন্নপূর্ণা পুজোয় ফুলের দাম থাকল নাগালের মধ্যেই। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক জানান, উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণেই কলকাতার পাইকারি ফুলবাজারে বাসন্তী বা অন্নপূর্ণা পুজোর এই মরশুমে গাঁদা, দোপাটি, অপরাজিতা, বেল, রজনিগন্ধার দাম এতটুকু বাড়েনি। বাসন্তী দুর্গাপুজোয় দরকার হয় পদ্মফুলের। প্রতিটি পদ্ম পাইকারি বাজারে ১০ থেকে ১২ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। খুচরো ব্যবসায়ীরা তা ১৫-১৮ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ গত বছর এই অন্নপূর্ণা পুজোর মরশুমে পাইকারি বাজারে তা বিক্রি হয়েছিল পিস প্রতি ২০-২৫ টাকায়।
বাসন্তী ও অন্নপূর্ণা পুজো ছাড়াও গোটা চৈত্র মাসে সন্ন্যাসীরা পালন করেন শিবের ব্রত। ফলে এই সময় আকন্দ ফুলের মালা, কাটা ফল, বেলপাতা ইত্যাদির দাম এমনিতেই চড়া থাকে। কিন্তু এবার ছবিটা ছিল উল্টো। বিভিন্ন বাজারের খুচরো ফুল ব্যবসায়ীরা জানালেন, আকন্দ মালা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ছ’টাকায়। কাটা ফলের দাম প্রতি পিস ২ থেকে ৩ টাকা।
কথা হচ্ছিল খুঁচরো ফুল ব্যবসায়ী অভিজিৎ সামন্তের সঙ্গে। তিনি জানান, ভালো, বড় গাঁদার মালার দাম এদিন ছিল ২০-২৫ টাকা। রজনিগন্ধার মালা বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ছোট বেলকুড়ি মালার দাম ছিল পাঁচ থেকে ছয় টাকা। গাঁদা ও রজনিগন্ধা মিলিয়ে ছোট মালার দাম ছিল ৫-৭টাকা। সজল দাস নামে আর এক খুচরো ব্যবসায়ী জানান, বিশেষ বিশেষ পুজোর দিনগুলিতে ২০ টাকার কম কুচো ফুল পাওয়া যায় না। এদিন কিন্তু ১০-১৫ টাকায় তা দিব্যি মিলেছে। শুধু তাই নয়, সিঙ্গেল রজনিগন্ধা দিয়ে ছোট মালা বিক্রি হয়েছে ১০ টাকায়।
ফুলের দাম কম থাকায় অনেকেই খুশি। এপিসি রোডের বাসিন্দা তন্ময় শ্রীমানি, ভূপেন বসু অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা অনিল চক্রবর্তী শ্যামবাজারে এসেছিলেন তাঁদের বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোর বাজার সারতে। কথা প্রসঙ্গে তাঁরা জানান, এবার ফুল-মালার দাম একটু কম শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। তাই অন্য বছরের তুলনায় এবার ফুলমালা একটু বেশিই নিয়েছি।