Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রযোজক দিলশাদ, ‘পর্ন’ শ্যুটিং গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে! যুগলের দেহ উদ্ধারের পর সরব স্থানীয়রা

গল্ফগ্রিনের যে ফ্ল্যাটে যুগলের দেহ মিলেছে, সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ-তরুণীদের নিয়মিত আনাগোনা লেগে থাকত। প্রতিদিন দেখা মিলত নতুন নতুন মুখের।

প্রযোজক দিলশাদ, ‘পর্ন’ শ্যুটিং গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে! যুগলের দেহ উদ্ধারের পর সরব স্থানীয়রা
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গল্ফগ্রিনের যে ফ্ল্যাটে যুগলের দেহ মিলেছে, সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ-তরুণীদের নিয়মিত আনাগোনা লেগে থাকত। প্রতিদিন দেখা মিলত নতুন নতুন মুখের। ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া দিলশাদ সবাইকে বলতেন, তিনি সিনেমা প্রযোজনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতভর ওই ফ্ল্যাটে পার্টি চলত। আর চলত ‘পর্ন’ ছবির শ্যুটিং! দিলশাদ ও তাঁর লিভ-ইন পার্টনার মেহুলির নগ্ন দেহ যে অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, তাতে এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এখানেই তদন্তকারীদের প্রশ্ন, তাহলে কি শনিবার পার্টির আগে বা পরে নীল ছবির শ্যুটিং হয়েছিল? ফ্ল্যাট থেকে আটক এক তরুণ ও তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে জোড়া রহস্যমৃত্যুতে তাঁদের কোনো ভূমিকা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

ঘটনার তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারছেন, আশপাশের বাসিন্দারা দিলশাদকে একজন ফিল্ম প্রডিউসার বা প্রযোজক হিসাবেই জানতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তিনি নিজেকে এভাবেই পরিচিত করেছিলেন। তাঁর সিনেমা বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রিলিজ হয়েছে বলে তরুণীদের জানাতেন। সেই সঙ্গে অন্যান্য সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তরুণীদের বলতেন দিলশাদ। সেই টোপ গিলে অনেকেই যোগাযোগ করতেন। তারপর সেই তরুণীকে গল্ফগ্রিন এলাকার ওই ফ্ল্যাটে আসতে বলা হত। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, সারাদিনই ওই ফ্ল্যাটে কমবয়সি ছেলেমেয়েদের আসা-যাওয়া লেগে থাকত। অনেক রাত পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই থাকতেন। কেউ কেউ আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ভোরবেলা বাড়ি ফিরতেন। এখান থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা, দিলশাদের লক্ষ্য ছিল আগত তরুণ-তরুণীদের প্রথমে নেশায় ডুবিয়ে দেওয়া। তার জন্য মদ ও মাদকের ব্যবস্থা করতেন দিলশাদই। তাই পুলিশ মনে করছে, মাদক কারবারিদের সঙ্গেও যোগাযোগ  ছিল দিলশাদের। যথেষ্ট দামি মাদক আনা হত সেখানে। সেক্ষেত্রে ‘পার্টি ড্রাগ’ হিসাবে পরিচিত কোকেন থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। 
ফ্ল্যাট থেকে আটক হওয়া তরুণ-তরুণীও পুলিশি জেরায় জানিয়েছেন, তাঁরাও দিলশাদকে সিনেমার প্রযোজক হিসাবে চিনতেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নানা লোকজনের সঙ্গে পরিচয় আছে বলে জানাতেন। এমনকি, মোবাইলে বিভিন্ন ছবির পোস্টার  দেখিয়ে বলতেন, এগুলি তিনিই প্রযোজনা করেছেন।  স্থানীয়দের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে ক্যামেরা নিয়ে দিলশাদের সঙ্গে একাধিক যুবককে তাঁরা বিভিন্ন সময় ঢুকতেও দেখেছেন। ক্যামেরা নিয়ে ঢোকার আগেই তরুণ-তরুণীরা সেখানে পৌঁছে যেতেন। তারপর সেখানে চলত নীল ছবির শ্যুটিং। শ্যুটিংয়ের আগে তলত দেদার মদ্যপান ও মাদক সেবন। উদ্দেশ্য,  নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁদের দিয়ে সহজেই ছবির শ্যুটিং করিয়ে নেওয়া। তাই কারা কারা এই ফ্ল্যাটে আসতেন, সেই খোঁজ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
 এই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় যুগলের মৃতদেহ। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ