Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার শুরু অস্থায়ী হোমগার্ড নিয়োগে দুর্নীতির অনুসন্ধান

এবার শুরু অস্থায়ী হোমগার্ড  নিয়োগে দুর্নীতির অনুসন্ধান
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের পর এবার শুরু হল অস্থায়ী হোমগার্ডদের (টিএইচজি) ঝাড়াইবাছাই পর্ব। বিভিন্ন জেলা তাঁদের সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক দপ্তরে। রিপোর্টে থাকছে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, কোথায় কোন প্রোজেক্টে তাঁরা ডিউটি করছেন প্রভৃতি বিষয়ে খুঁটিনাটি। তার ভিত্তিতে ভুয়ো কর্মীদের চিহ্নিত করা হবে। নিয়োগের সময় তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং শারীরিক মাপজোক যথানিয়মে করা হয়েছিল কি না যাচাই করা হবে তাও। পূর্বতন জমানায় সিভিকের পাশাপাশি সব জেলায় অস্থায়ী হোমগার্ডও নিয়োগ করা হয়। সেতু তৈরি, রাস্তঘাট সংস্কার, দুর্গাপুজোর ভিড় সামলানো প্রভৃতি সময়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ডিউটি দেওয়া হয় তাঁদের। পূর্বতন জমানায় টিএইচজি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নয়া জমানায় টিএইচজি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পেয়েছে, ভুয়ো প্রোজেক্ট দেখিয়ে বহু টিএইচজি নেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে তাঁরা ডিউটিই করেননি, কিন্তু টানা বেতন উঠেছে তাঁদের নামে। অনেক প্রোজেক্টে অস্থায়ী হোমগার্ডের সংখ্যাতেও ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। এঁদের নিয়োগের বহু ক্ষেত্রে যোগ্যতামান মানা হয়নি। মূল ‘যোগ্যতা’ বিবেচিত হয়েছিল কোনো কোনো তৃণমূল বিধায়কের ‘সুপারিশ’। অভিযোগ, বিনিময়ে ক্যান্ডিডেট পিছু চার-পাঁচ লক্ষ টাকা ‘প্রণামী’ নিয়েছেন ওই রাজনৈতিক প্রভুরা। অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন প্রোজেক্ট দেখিয়ে ঢালাও নিয়োগ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা তৃণমূলের কোনো রাঘব বোয়াল সেই এজেন্সির মালিক। চাকরি বা কর্মসংস্থানের নামে এভাবেই বিপুল লুটপাট চলেছে বিগত জমানায়। এজন্যই জেলাগুলির কাছে টিএইচজি সংক্রান্ত খতিয়ান চেয়েছিল রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক দপ্তর। সেখানে পরিষ্কার করে জানাতে হবে: যে-প্রোজেক্টের জন্য তাঁদের নিয়োগ বলে দাবি করা হয়েছিল সেগুলি কি আদৌ অনুমোদনপ্রাপ্ত? কতজন টিএইচজি নিয়োগ করা হয়েছিল? সংশ্লিষ্ট প্রোজেক্টের জন্য  নিয়োগের পদ্ধতি কী ছিল? এসব নিয়োগ কতটাই-বা যুক্তিযুক্ত ছিল? দুর্নীতি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে জেলাগুলির রিপোর্টকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে রাজ্য পুলিশ। কাজটি গুরুত্বসহকারে শুরু হয়েছে বলেই খবর। আরও খবর পাওয়া যাচ্ছে, অস্থায়ী হোমগার্ডদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং শারীরিক মাপজোক ফের যাচাই করা হবে। এক্ষেত্রে এই পরীক্ষায় যাঁরা উত্তীর্ণ হবেন না তাঁদের ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ