নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতসকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে হুলস্থুল। চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ভিতরে রক্তারক্তি কাণ্ড। পরকীয়ায় জড়িত স্বামীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্ত্রী। ধরা পড়তেই প্রেমিকের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করলেন যুবতী। বধূর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন তিনি। গুরুতর জখমের নাম প্রিয়াঙ্কা বৈদ্য। পুলিস সূত্রে খবর, খুনের চেষ্টার অভিযোগে আহতের স্বামী সৌরভ বৈদ্য ও তাঁর প্রেমিকা পায়েল চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে বউবাজার থানার পুলিস। ধৃতদের আজ, মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।
Advertisement
বছর ছ’য়েক আগে বিয়ে হয় সৌরভ ও প্রিয়াঙ্কার। তাঁরা খড়দহের বাসিন্দা। পুলিস জানিয়েছে, সৌরভ পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারদের চেম্বারে তাঁর নিত্য যাতায়াত। কর্মসূত্রেই পরিচয় পায়েলের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, এরপর এই যুগলের সম্পর্ক ক্রমে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কয়েকদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কা স্বামীর আচার আচরণে পরিবর্তনের আঁচ পেয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এদিন সকালে বাড়ি থেকে সোজা মেডিক্যাল কলেজে চলে আসেন সৌরভ। কিছুক্ষণ পরেই একই পথ ধরে হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগে এসে পৌঁছন তাঁর স্ত্রী। সেখানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান সৌরভ ও পায়েলকে। বচসায় জড়ান দুই মহিলা। সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আচমকা চেস্ট মেডিসিন বিভাগে থাকা একটি হাতুড়ি তুলে নেন পায়েল। এরপর প্রিয়াঙ্কার মাথা লক্ষ্য করে চালিয়ে দেন তিনি। উপস্থিত নার্সরা ওই মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান। সৌরভ ও তাঁর প্রেমিকাকে আটক করেন হাসপাতালের কর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মেডিক্যাল কলেজের আউটপোস্টের পুলিস। পরে বউবাজার থানার প্রিজন ভ্যান এসে সৌরভ ও পায়েলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা।



