Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্যই বধূকে নৃশংস খুন, ময়নায় মুণ্ডহীন যুবতীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত ১

প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্যই বধূকে নৃশংস খুন, ময়নায় মুণ্ডহীন যুবতীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত ১
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়না থানার রায়চক গ্রামে যুবতীর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিস। নিহত যুবতীর নাম শেফালি বর্মণ(৩২)। বাড়ি ময়না থানার আড়ংকিয়ারানা গ্রামে। বাপেরবাড়ি সবং থানার দুরবাজপুর গ্রামে। ওই ঘটনায় পুলিস বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ শেফালির স্বামী পবিত্র বর্মণকে গ্রেপ্তার করেছে। পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে পবিত্র তার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ ও মাথা আলাদা করেছিল বলে অভিযোগ। ওই যুবককে গ্রেপ্তারের পর যুবতীর কাটা মাথার খোঁজে শুক্রবার দিনভর চণ্ডীয়া নদীর ধারে তল্লাশি চালানো হয়। ধৃতকে শুক্রবার তমলুক সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক ১২দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন। সেইসঙ্গে ডিএনএ টেস্টের আবেদনও মঞ্জুর করেছে কোর্ট।
Advertisement
গত ১৯জানুয়ারি রবিবার সকালে ময়না থানার রায়চক গ্রামে চণ্ডীয়া নদীর ধারে এক যুবতীর বস্তাবন্দি দেহ পাওয়া যায়। মুণ্ডহীন যুবতীর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল পুলিস। ড্রোন ও স্নিফার ডগ এনে তল্লাশি চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ওই ঘটনার ব্রেক থ্রু পায় পুলিস। সোর্স মাফরত পুলিস জানতে পারে, আড়ংকিয়ারানা গ্রামের শেফালি বর্মণ মিসিং আছে। ভগবানপুর থানা এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রণয়ের পর তিনি চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করা হয়। ওই ঘটনার সূত্র ধরেই শেফালির পরিচয় মেলে।
জানা গিয়েছে, আট-দশ বছর আগে পবিত্র বর্মণের সঙ্গে শেফালির বিয়ে হয়। ধৃত ওই যুবক স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ। ধৃত যুবক স্ত্রীকে তার সঙ্গীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য চাপ দিত। ওই যুবতী তাতে রাজি হতেন না। এনিয়ে দু’জনের ঝামেলা হতো। পবিত্র কর্মসূত্রে আন্দামানে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ভগবানপুরের এক যুবকের সঙ্গে শেফালির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘর বাঁধার স্বপ্নে ওই যুবকের হাত ধরে তাঁর বাড়িতে ওঠে শেফালি। বিষয়টি জানার পর আন্দামান থেকে ফিরে আসে পবিত্র। দেহ উদ্ধারের তিনদিন আগে দু’টি বাইকে আটজন ময়নার বাকচা এলাকার যুবক ভগবানপুরে শেফালির কাছে হাজির হয়। তাঁকে মারধর করে সেখান থেকে তুলে আনে। তারপর ১৯তারিখ দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় পবিত্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের জড়িত রয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে।
শুক্রবার কড়া নিরাপত্তায় পবিত্র বর্মণকে ময়না থানা থেকে তমলুক কোর্টে আনা হয়। পুলিস হেফাজত মঞ্জুর হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তায় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানা থেকে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও তার সঙ্গী ছিল সাতজন পুলিস কর্মী। পবিত্র গ্রেপ্তার হওয়ার পর আড়ংকিয়ারানা, গোড়ামহাল ও বাকচা এলাকার তার কয়েকজন সঙ্গী গাঢাকা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে পবিত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। স্বামীর সংসার ছেড়ে শেফালি ভগবানপুরে প্রেমিকের কাছে চলে যাওয়ার পর পবিত্রর ওই সঙ্গীসাথীরা লাগাতার ফোন করে তাঁকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। সেইসব তথ্য পুলিসের হাতে এসে পৌঁছেছে। 
তমলুক মহকুমা পুলিস অফিসার আফজল আব্রার বলেন, মুণ্ডহীন যুবতীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত যুবককে পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ