নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের গুমায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর আত্মঘাতী হওয়ায় মঙ্গলবারও শোকস্তব্ধ এলাকা। পাশাপাশি অশোকনগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে পড়শি যুবক জসিম দফাদার ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তরা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস। পরিবারের দাবি, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সোনালি খাতুনকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করত জসিম। নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো বিয়ে করার জন্য। যুবকের উৎপাতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে সোনালি। মাধ্যমিকের প্রথম দিনের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসে আত্মঘাতী হয় কিশোরী। নিজের ঘরে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পরীক্ষা দিতে যাওয়া ও ফেরার পথে সোনালিকে উত্যক্ত করে জসিম। শুধু তাই নয়, বাড়ি ফেরা পরও ফোনে খারাপ কথা বলে। সেই কারণে সোনালি আত্মঘাতী হয় বলেই দাবি পরিবারের। উল্লেখ্য, সোনালি গুমার রবীন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল। সে গুমার ছোট বামুনিয়ায় মামার বাড়িতে থাকত। তার আসল বাড়ি দত্তপুকুরে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে এখানেই থাকত। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল রাজিবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। মৃতার মামা আসরব আলি মল্লিক বলেন, প্রতিবেশী জসিম দফাদারের প্ররোচনাতেই আত্মঘাতী হল আমার ভাগ্নি সোনালি। আমরা পুলিসের কাছে ওদের পরিবারের নামে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। অশোকনগর থানার পুলিস জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত জসিম দফাদার ও তাঁর বাবা-মায়ের খোঁজে তল্লাশি চলছে।



