নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঘোজাডাঙা সীমান্তে সরকারি পার্কিং জোন নেই। তাই বেসরকারি পার্কিংয়েই দাঁড়াতে হয় একের পর এক ট্রাককে। এই পার্কিংয়ের মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ফি বৃদ্ধি হয়নি। অথচ অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় ট্রাক থেকে প্রায় দ্বিগুণ ফি নেওয়া হচ্ছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখালেন পার্কিংয়ের মালিকরা। এর জেরে বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেল। সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকল কয়েকশো পণ্যবাহী ট্রাক। সরকারিভাবে আশ্বাস না মেলায় পার্কিং মালিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
Advertisement
বসিরহাটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ঘোজাডাঙা হল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি পণ্যবাহী ট্রাক এদেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যায়। আবার সেই গাড়িগুলি ফিরেও আসে। এত ট্রাক আসা-যাওয়া করলেও সীমান্তে সরকারিভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তবে ৮৪টি বেসরকারি পার্কিং রয়েছে। কেউ জমি লিজ নিয়ে পার্কিংয়ের ব্যবসা করছেন, কেউ আবার নিজের জমিতে পার্কিং জোন চালাচ্ছেন। রাজ্যের অন্যান্য সীমান্তে বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার জন্য পার্কিং ফি নেওয়া হয় ৮০০ টাকা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ঘণ্টা পিছু ২০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। অথচ ঘোজাডাঙা সীমান্তে ২৪ ঘণ্টার পার্কিং ফি এখনও ৪০০ টাকা নেওয়া হয়। ২০২২ সালে রাজ্যের ‘সুবিধা’ পোর্টালে ঘোজাডাঙা পার্কিং ওনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন তাদের নাম নথিভুক্ত করে। তখন বলা হয়, পার্কিংয়ের একটি অংশ সরকারি তহবিলে জমা রাখা হবে। তা আবার সংশ্লিষ্ট পার্কিং মালিকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। প্রায় তিন বছর হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেই টাকা অ্যাকাউন্টে আসেনি। এই খাতে সব মিলিয়ে সরকারের কাছে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। পার্কিং মালিকরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এ নিয়ে চিঠি পাঠিয়ে টাকার জন্য তদ্বির করেছেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। পার্কিং ফি বৃদ্ধি ও বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পার্কিং মালিকরা পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁরা মাইক বেঁধে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন। সীমান্ত সড়কের উপর চেয়ার পেতে বসে পড়েছেন। ফলে বহু পণ্যবাহী ট্রাক আটকে গিয়েছে। যেকারণে ঘোজাডাঙা সীমান্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
ঘোজাডাঙা পার্কিং ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, পার্কিং ফি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমতা রাখার দাবি করছি। সঙ্গে বকেয়া টাকারও দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কিছুই কানে তুলছে না সরকার। তাই, আন্দোলনে শামিল হয়েছি। নিজস্ব চিত্র
ঘোজাডাঙা পার্কিং ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, পার্কিং ফি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমতা রাখার দাবি করছি। সঙ্গে বকেয়া টাকারও দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কিছুই কানে তুলছে না সরকার। তাই, আন্দোলনে শামিল হয়েছি। নিজস্ব চিত্র



