দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের অন্যতম বড় পরীক্ষার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নেওয়ার ফাঁকেই দুর্গাপ্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত নদীয়ার শান্তিপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রিয়াংশু দাস। মৃৎশিল্প যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই পরীক্ষার মাঝেই উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ার হাতে সেজে উঠছে দেবীর চিন্ময়ী থেকে মৃন্ময়ী রূপ।
কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র প্রিয়াংশু এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তার ঝোঁক মৃৎশিল্পে। শান্তিপুর শহরের ডাবরেপাড়ার দাস পরিবারের ছেলে প্রিয়াংশুর বাড়ির কেউই মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত নেই। কিন্তু এবিষয়ে ছোটবেলা থেকেই তার চূড়ান্ত আগ্রহ। তাই একসময় নিজে থেকেই প্রতিমা গড়া শুরু করে সে। মূলত আর্টের মিনিয়েচার ফর্ম অর্থাৎ ছোট দেবদেবীর মূর্তি তৈরিতে পটু তার কৈশোরের হাত। তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম দুর্গামূর্তি তৈরি করে সে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। স্থানীয় শিল্পীদের প্রেরণা পেয়েই ধীরে ধীরে তার প্রতিমা তৈরির দক্ষতা বেড়েছে। তবে আজ কেবল প্রতিমাই নয়, তার সাজ, চালচিত্র ও অলঙ্করণও প্রিয়াংশু নিজেই তৈরি করে। দুর্গা, কালী, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা, জগদ্ধাত্রী-কী নেই তার সৃষ্টির অনবদ্য ক্যাবিনেটে! এবারের পুজোতেও সে প্রাচীন ঘরানার দুর্গামূর্তি তৈরির বরাত পেয়েছে। এদিকে, সে আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফলে আশ্বিনের প্রাক্-পর্বে যেন তার নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়টুকুও নেই। তার তৈরি দুর্গাপ্রতিমা চতুর্থীর দিন কৃষ্ণনগরের বউবাজারের একটি মণ্ডপে যাবে।
প্রিয়াংশুর মা পিঙ্কি দাস বলেন, ছোট থেকেই ওর মাটির প্রতি টান। যা তৈরি করে, তা-ই এককথায় অনবদ্য হয়। আমরাও মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে যাই। প্রিয়াংশুর তৈরি মূর্তি কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হলে ওকে আমরা আর্ট কলেজে ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছি। যে বিষয়ে ওর আগ্রহ, তা নিয়েই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। আমরা চাই, ও জীবনে অনেক বড় শিল্পী হোক। পরীক্ষার মাঝেও সময় বের করে যেভাবে এই কাজ করছে, তা দেখে আমরা সত্যিই বিস্মিত। প্রসঙ্গত, প্রিয়াংশুর সৃজনশীলতা ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে প্রশংসিত। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিমা গড়ার কাজও সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শান্তিপুরের এই তরুণ। তার হাত ধরে আগামী দিনে নদীয়ার শিল্প ঐতিহ্য নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। এমনই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র