Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

দেশের বহু বন্দরের বেসরকারিকরণ, ৫ বছরে ৬৭ হাজার কোটি তোলাই টার্গেট

কয়েক বছর আগেই ঘোষণা করা হয়েছে ন্যাশনাল মানিটাইজেশন পাইপলাইন প্রকল্পের। সরকারি সম্পদকে বেসরকারি হাতে দিয়ে মোট ছ’লক্ষ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের।

দেশের বহু বন্দরের বেসরকারিকরণ, ৫ বছরে ৬৭ হাজার কোটি তোলাই টার্গেট
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কয়েক বছর আগেই ঘোষণা করা হয়েছে ন্যাশনাল মানিটাইজেশন পাইপলাইন প্রকল্পের। সরকারি সম্পদকে বেসরকারি হাতে দিয়ে মোট ছ’লক্ষ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের। সেই অনুযায়ী কথা ছিল, দেশের ৯টি প্রধান বন্দরের নানাবিধ পরিচালন ব্যবস্থা বেসরকারিকরণ করার জন্য ৩১টি প্রকল্প বাছাই করা হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে বিগত আর্থিক বছরে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে মোদি সরকারের। আরও ৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চলতি অর্থবর্ষে। কিন্তু সম্প্রতি মোদি সরকার স্থির করেছে, এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় বন্দর এবং জাহাজ মন্ত্রক নতুন যে পরিকল্পনা তৈরি করেছে, সেটি হল, দেশের বন্দরগুলির ৮৫ শতাংশই পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালানো হবে। আর এজন্য ৩১টির পরিবর্তে এখন ৫০টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০৩০ সাল, অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এভাবে দেশের যাবতীয় বন্দরের সিংহভাগ অংশ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি হাতে দিয়ে ৬৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। গুজরাত থেকে কলকাতা— সব বন্দরই আছে এই তালিকায়।

Advertisement

এবার বাজেটে একটি নতুন বন্দর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে নির্মাণ করা হবে সেটি। লগ্নির অঙ্ক মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকা। সম্পূর্ণ নতুন অর্থাৎ পরিভাষায় গ্রিনফিল্ড বন্দর হলেও এটি যখন সমাপ্ত হবে, তখনও সিংহভাগ কার্গো হ্যান্ডলিং কাজ দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থাকে। ২০২৯ সালে প্রথম দফার কাজ সমাপ্ত হবে। ২০৩৭ সালে সমাপ্ত হবে দ্বিতীয় দফার কাজ। পাশাপাশি আরও একটি নতুন বন্দর, নিকোবর পোর্টের কাজ শেষ হবে আগামী ১০ বছরে। এই বন্দরের জন্য লগ্নির পরিমাণ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের মোট পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা ২৬০০০ লক্ষ টন। তা ২০২৭ সালের মধ্যে ১ লক্ষ টনে নিয়ে যাওয়া হবে। ভারতের যাবতীয় বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব আগামী দিনে ক্রমেই তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি হাতে। অর্থাৎ লিজ দেওয়া হবে দীর্ঘদিনের। আর হয় এককালীন অথবা বার্ষিক একটি ভাড়া নেবে সরকার। সুতরাং, ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহণ বাবদ যে মুনাফা হবে তার সবই যাবে বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছে। যে বেসরকারি সংস্থাগুলির বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরই দেওয়া হবে অগ্রাধিকার।
বিমানবন্দর, বন্দর, টেলিকম, রেল, সরকারি ভবন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি ইত্যাদি সবই রয়েছে ন্যাশনাল মানিটাইজেশন পাইপলাইনে। এই প্রকল্পে সরকারি সংস্থা ও সম্পত্তি বিক্রি অথবা লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ