Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ, ধৃত গৃহশিক্ষক

ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ, ধৃত গৃহশিক্ষক
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের ধর্ষণ। এবার মানসিক অবসাদের সুযোগ নিয়ে অসহায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। খাবারের সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে অচেতন করে ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। লেকটাউনের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ হওয়ার পর লেকটাউন থানার পুলিশ অভিযুক্তকে ভিন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম অনিমেষ নাগ। রবিবার ধৃতকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বারুইপুরের মতো কোনো আইনজীবী তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে রাজি হননি। শেষমেশ লিগ্যাল এইড থেকে তাঁকে আইনজীবী দেওয়া হয়। আদালত ধৃতকে সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর। কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। একবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। তাঁর গৃহশিক্ষক অনিমেষ এই অবসাদ ও উদ্বেগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেছিলেন। বর্তমানে তিনি গৃহশিক্ষক না থাকলেও ছোটো থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়েছেন তিনি। পরিচয় এবং বিশ্বাসের উপর ভরসা করেই ছাত্রীর পরিবার মেয়েকে আলোচনায় বসাতে রাজি হয়। গত ৭ জুলাই ওই ছাত্রী গৃহশিক্ষকের বাড়িতে যান। লেকটাউনের পল্লিশ্রী কলোনিতে গৃহশিক্ষকের বাড়ি।
অনিমেষ বিবাহিত। কিন্তু, ওইদিন বাড়িতে স্ত্রী ছিলেন না। অভিযোগ, বাড়িতে যাওয়ার পর অনিমেষ ওই ছাত্রীকে খাবার খেতে দেন। স্যর দিয়েছেন, তাই তিনি খাবার খেতে সংকোচ বোধ করেননি। তারপরই অচেতন হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। সেই সুযোগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বিকালে সংজ্ঞা ফেরে ছাত্রীটির। চোখ খুলে দেখেন, নগ্ন অবস্থায় তিনি বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। পাশেই শুয়ে রয়েছেন ওই গৃহশিক্ষক। তখনই বুঝতে পারেন, তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্যাতিতা ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে মাকে ফোন করেন। তিনি জানান, গৃহশিক্ষক তাঁকে ধর্ষণ করেছে। এরপর বাড়ি ফিরে আরও অবসাদে চলে যান। এই ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল অনিমেষ। শনিবার লেকটাউন থানায় ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। গৃহশিক্ষক সিমকার্ড বদলে ফেললেও পুরানো হ্যান্ড সেটটি বদলাননি। ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে লেকটাউন থানার পুলিশ পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ