নয়াদিল্লি: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ফের ত্রিদেশীয় সফরে নরেন্দ্র মোদি। এই পর্বে সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছান তিনি। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ বিদেশনীতিতে জোর দিতে ছ’দিনের এই সফরে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডেও যাবেন মোদি। এই সফরপর্বে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
সোমবার জাকার্তা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো। এব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মোদির বার্তা, ‘জাকার্তায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতোর উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি অভিভূত। ২০১৮ সালে আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার সুফল পেয়েছে দুই দেশের জনগণ। এবার এই সম্পর্ককে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট সুবিয়ানতোর সঙ্গে বৈঠক করব।’ জানা গিয়েছে, আগামী ৮ জুলাই মোদি ইন্দোনেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া যাবেন। দু’দিন পর, ১০ আগস্ট পৌঁছবেন নিউজিল্যান্ডে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর লাগাতার বিদেশ সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ তিনি যেভাবে লাগাতার বিদেশ সফর করে চলেছেন, তা চোখে লাগার মতো। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ১০০টিরও বেশি বিদেশ সফর করেছেন তিনি। গত ছ’মাসে ১৩টি দেশে গিয়েছেন মোদি। এই প্রসঙ্গেই এক্স হ্যান্ডলে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের কটাক্ষ, কোনো পুরস্কার দেওয়া হলেই প্রধানমন্ত্রী মোদি সেদেশে ছুটে যান। ইঙ্গিত স্পষ্ট, নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সেশেলস সফর। পাল্টা আসরে নেমেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবির জানিয়েছে, ওই পুরস্কার মোদির আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার যথার্থ স্বীকৃতি।