Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

পূর্ণিয়ায় নয়া বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বিহারের ‘সীমাঞ্চল’ দখলের আশায় এনডিএ

বিহারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার পূর্ণিয়ায় নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পূর্ণিয়ায় নয়া বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বিহারের ‘সীমাঞ্চল’ দখলের আশায় এনডিএ
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

পাটনা: বিহারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার পূর্ণিয়ায় নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেইসঙ্গে সামগ্রিকভাবে বিহারের জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস ও সূচনা করেছেন তিনি। তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পূর্ণিয়ার বিমানবন্দর। পূর্ব বিহারের আরারিয়া, কিষানগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও কাটিহার-এই চার জেলাকে নিয়ে ‘সীমাঞ্চল’ এলাকা। বিহারের রাজনীতিতে এই এলাকা বরাবরই বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। গত লোকসভা নির্বাচনেও এখানকার চার আসনের মধ্যে দুটি কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র একটি। আবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউয়ের ভোটব্যাঙ্কের মূল ভিত্তিও এই সীমাঞ্চল এলাকা। কিন্তু প্রথমে সংশোধিত ওয়াকফ আইন ও সম্প্রতি এসআইআর ইস্যুতে ওই এলাকায় কিছুটা ব্যাকফুটে শাসক এনডিএ। তাই বিরোধীদের মোকাবিলায় সীমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি-জেডিইউ জোট। সেই পরিকল্পনায় নয়া বিমানবন্দরই শাসক জোটের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এদিন এক মঞ্চ থেকে মোদি ও নীতীশ ‘ঐক্যবদ্ধ এনডিএ’র বার্তাও দিলেন। 

Advertisement

কিন্তু পূর্ণিয়া বিমানবন্দর এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? পূর্ব বিহারে এতদিন কোনও বিমানবন্দর ছিল না। তাই সীমাঞ্চলের চারটি জেলা সহ ভাগলপুর ও মাধেপুরা থেকে আকাশপথে দেশের অন্যত্র যাওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। এক্ষেত্রে পাটনা অথবা গয়া বিমানবন্দরই ছিল ভরসা। দূরত্ব কম হওয়ায় কিষানগঞ্জ জেলার বাসিন্দারা আবার পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরের উপর নির্ভর করতেন। এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে। এছাড়া সীমাঞ্চল এলাকার মূল ফসল মাখানা ও ভুট্টা। আকাশপথে যোগাযোগের সুবিধা হওয়ায় ওই ফসল দেশের অন্যত্র পাঠানোও সহজ হবে, যাতে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক উড়ানের উপযুক্তও করে তোলা হবে। আর এই বিষয়টিকেই এবারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে কাজে লাগাতে চাইছে এনডিএ।
এছাড়া প্রতি বছর বর্ষায় সীমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এদিন বন্যা রুখতেও একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। জেডিইউ নেতা সন্তোষ কুশওয়াহার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সীমাঞ্চলকে পুরো বদলে দিতে চলেছেন। যদিও কংগ্রেস নেতা কুমার আদিত্যের দাবি, ‘সীমাঞ্চলের মানুষ জানে আসল সত্যিটা কী। প্রতিবার নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেগুলির কোনও বাস্তবায়ন হয় না। সবটাই প্রতারণা।’

সম্পর্কিত সংবাদ