Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

যুদ্ধের জেরে ইরানে রপ্তানি বন্ধ, দেশেও চায়ের চাহিদা নিম্নমুখী! জোড়াফলায় নিলামে কমছে দাম

যুদ্ধের জেরে ইরানে রপ্তানি বন্ধ। দেশের বাজারেও চাহিদা তলানিতে। জোড়াফলায় নিলামে কমছে চায়ের দাম। ফলে উত্তরবঙ্গ, অসম সহ গোটা দেশে সঙ্কটে চা শিল্প।

যুদ্ধের জেরে ইরানে রপ্তানি বন্ধ, দেশেও চায়ের চাহিদা নিম্নমুখী! জোড়াফলায় নিলামে কমছে দাম
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ১৫:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: যুদ্ধের জেরে ইরানে রপ্তানি বন্ধ। দেশের বাজারেও চাহিদা তলানিতে। জোড়াফলায় নিলামে কমছে চায়ের দাম। ফলে উত্তরবঙ্গ, অসম সহ গোটা দেশে সঙ্কটে চা শিল্প। এমন পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চললে চা শিল্পে সর্বনাশ নেমে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। চলতি মাসে নিলামে ডুয়ার্সের সিটিসি চায়ের দাম কমেছে ১৪ শতাংশ। ৭ শতাংশ কমেছে অসম চায়ের দাম। সবমিলিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে অকশনে এমাসে চায়ের দাম কমেছে গড়ে ১৩ শতাংশ।

Advertisement

উত্তরবঙ্গে কয়েক হাজার ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে। তাদের কাছ থেকে কাঁচা পাতা কিনে চা তৈরি করে বটলিফ ফ্যাক্টরি। সেই বটলিফের চায়ের দামে কার্যত ধস। অবস্থা এমনই যে, চলতি মাসে মাত্র ৭০ টাকা কেজি দরে নিলামে বটলিফের চা বিক্রি করতে হয়েছে। গত ১৮ জুন (২৫ নম্বর সেল) শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে মজুত চায়ের মাত্র ৬৮ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। অথচ গত বছর একই সেল নম্বর থেকে চা নিলাম হয়েছিল ৮২ শতাংশ। লাফিয়ে কমছে দামও। গত বছর শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে ২৫ নম্বর সেলে চায়ের গড় দাম ছিল ২১২ টাকা। এবার তা কমে ১৮৬ টাকা। শিলিগুড়ি নিলাম কেন্দ্রে এস্টেট গার্ডেনের চায়ের দাম গতবার যেখানে ২৭৭ টাকা কেজি ছিল, এবার তা কমে হয়েছে ২৩৮ টাকা। উচ্চমানের চায়ের ক্ষেত্রেও কমছে বিক্রি। গতবার শিলিগুড়ি অকশন সেন্টারে ২৫ নম্বর সেলে ২৮০ টাকা বা তার বেশি দামের যে পরিমাণ চা নিলাম হয়েছিল, এবার তার চেয়ে ১৬ শতাংশ বিক্রি কমেছে।
প্রতি বছর দেশে গড়ে ১৩০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে বিদেশে রপ্তানি হয় প্রায় ২৫ কোটি কেজি চা। গত বছর ভারত থেকে রেকর্ড ২৬ কোটি কেজি চা রপ্তানি হয়েছিল। যার সিংহভাগ যায় রাশিয়া, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও আমেরিকায়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে বর্তমানে ইরানে রপ্তানি বন্ধ। আটকে রয়েছে প্রায় দেড়শো কোটির চা। পাকিস্তানেও চা যাচ্ছে না। ফলে সঙ্কট বাড়ছে।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব রামঅবতার শর্মা বলেন, ইরানে মূলত অর্থোডক্স চা যায়। এবার প্রায় দেড়শো কোটি টাকার চা রপ্তানির কথা ছিল সেদেশে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিদেশে অসম, দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের কিছু বাগানের চা যায়। কিন্তু রপ্তানি কমতে থাকায় অসমে এতদিন যাঁরা অর্থোডক্স চা তৈরি করতেন, তাঁরা সিটিসি চায়ে ঝুঁকেছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় সিটিসি চায়ের জোগান বেড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দাম কমছে।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, একদিকে দেশের বাজারে চায়ের চাহিদা বাড়ছে না। অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকে যাচ্ছে রপ্তানি। দুই মিলিয়ে সঙ্কটে চা শিল্প। তাঁর দাবি, গোটা উত্তরপূর্ব ভারতে মোট যে চা উৎপাদন হয়, তার ৮৭ শতাংশ  তৈরি অসম ও উত্তরবঙ্গে। ফলে দেশে চা শিল্পে সঙ্কট দেখা দিলে তার বড়সড় প্রভাব পড়বে এখানে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ