Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেআইনিভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ হতেই ইমারতি সামগ্রীর দাম চড়া, উত্তরবঙ্গজুড়ে থমকে নির্মাণকাজ

উত্তরবঙ্গে বেআইনিভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় নির্মাণকাজ থমকে গেছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বিল্ডার্সরা। বিস্তারিত পড়ুন।

বেআইনিভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ হতেই ইমারতি সামগ্রীর দাম চড়া, উত্তরবঙ্গজুড়ে থমকে নির্মাণকাজ
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ, এটাকে হাতিয়ার করে ইমারতি সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। একমাস আগেও একবস্তা বালির যেখানে দাম ছিল ৩৫-৪০ টাকা, সেখানে এখন তার দাম চাওয়া হচ্ছে ৯০ টাকা! তাতেও মিলছে না। ফলে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু বাড়ি ও ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ। 

Advertisement

বিল্ডার্স মালিকদের দাবি, বালি-পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করে যদিওবা মিলছে, অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাঁদের। স্বাভাবিকভাবেই বালি-পাথরের দাম বাড়াতে হয়েছে তাঁদের। এদিকে, বালি ও পাথর না মেলায় নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সিমেন্ট, রড সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের বিক্রি মার খাচ্ছে। কারণ, কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে বালি-পাথর কিনতে চাইছেন না বেশিরভাগ মানুষজন। ফলে থমকে গিয়েছে যাবতীয় নির্মাণকাজ। পেটে টান পড়েছে রাজমিস্ত্রি, জোগাড়েদের পাশাপাশি ট্রাকচালকদের। 
বিল্ডার্স মালিকদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি-পাথর তোলা বন্ধে প্রশাসন যে কড়া মনোভাব দেখিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু একইসঙ্গে বাজারে বালি-পাথরের জোগান যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য বৈধভাবে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার নতুন করে অনুমতি দেওয়া হোক। 
ইমারতি সামগ্রী বিক্রেতাদের দাবি, এমনিতেই বর্ষার মরশুমে জুনের ১৫ তারিখ থেকে বৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে। সেই হিসাবে হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। এর মধ্যে যদি বালি-পাথরের সংকট না মেটে, তাহলে আগামী কয়েকমাস নির্মাণকাজ ব্যাহত হবে। শুধু জলপাইগুড়ি নয়, উত্তরবঙ্গজুড়ে এর প্রভাব পড়বে। প্রশাসনের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানিয়েছে বিল্ডার্স মালিকদের সংগঠন।
জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) হারেশ রশিদ বলেন, বর্তমানে জেলায় বিভিন্ন নদীতে আটটি জায়গা থেকে বৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হয়ে থাকে। আরও তিনটি জায়গা থেকে আইন মেনে বালি উত্তোলনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন জমা পড়েছিল। খতিয়ে দেখে তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজারে বালি-পাথরের সংকট প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসকের দাবি, রাজ্য সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বিভিন্ন নদী থেকে যাঁরা বালি-পাথর উত্তোলন করেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়েছিল। সেখানে বিষয়টি তোলা হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, ভুটান ও সিকিম পাহাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে জল রয়েছে। সেকারণে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বালি উত্তোলনের কাজ। তবে এটুকু আমরা বলতে পারি, জেলার কোথাও বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে না। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকদের বলা হয়েছে সারপ্রাইজ ভিজিট করতে। আমরাও যখন-তখন নদীর পাড়ে হানা দিচ্ছি। সরকারকে রাজস্ব দিয়ে যেসব নদী থেকে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে, সেখানেও কোনো ট্রাকে ওভারলোডিং হচ্ছে না।
জলপাইগুড়ি সিমেন্ট ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিমল কুণ্ডুর দাবি, আগে এক গাড়ি বালি আমরা আড়াই হাজার টাকায় কিনতাম। এখন আট হাজার টাকাতেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেশিরভাগ বিল্ডার্স মালিকের কাছেই বালি নেই। যেটুকু আছে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ