নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আলু, পাটের পর এবার চিন্তা বাড়ছে সুগন্ধি ধান চাষিদের। এই ধানের দামও নিম্নমুখী। গোবিন্দভোগ চাল মূলত কেরল এবং দুবাইয়ে যায়। বাইরে চালের চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে। সেই কারণেই ৬০ কেজি ধান পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামী দিনেও দাম পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। চাষিরা বলছেন, গোবিন্দভোগ ধান চাষ করা যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ। তাছাড়া অন্যান্য ধানের তুলনায় ফলনও কম হয়। ৬০ কেজি ধানের দাম সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা হলে চাষিরা লাভের মুখ দেখেন। এই ধানের বাজার পুরোটাই ফড়েরা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা দাম বাড়ানোর জন্য চাষিদের থেকে ধান কিনে দিনের পর দিন মজুত করে রাখে। এই অবস্থায় বাজারে সংকটও তৈরি হয়। দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকায় অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীরা বিকল্প চালের খোঁজ করছেন।
রাইসমিল মালিক শ্যামল রায় বলেন, মহারাষ্ট্রে কলম নামে ধান চাষ হচ্ছে। কেরল বা দুবাইয়ে এই চাল যাচ্ছে। গোবিন্দভোগ ধানে বাইরে বিরিয়ানি হয়। কলম চালেও ভাল বিরিয়ানি তৈরি হওয়ার জন্যই গোবিন্দভোগের চাহিদা কমছে। চাষিরা বলেন, সরকার স্বর্ণ বা অন্য ধান ভরতুকি দিয়ে কেনে। কিন্তু, গোবিন্দভোগ ধান ফড়েদেরই বিক্রি করতে হয়। তারা যে দাম ঠিক করে, সেটাই চূড়ান্ত।
রায়না-২ ব্লকের চাষি সামসুদ্দিন শেখ বলেন, পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদরে সব থেকে বেশি গোবিন্দভোগ ধান চাষ হয়। গত বছরও দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এভাবে ফড়েরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে চাষিরা সমস্যায় পড়বে। আরএক চাষি বলেন, ফড়েদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে দাম ওভাবেই ওঠানামা করবে। কখনো দাম বেড়ে যাবে। আবার কখনো কমে যাবে। দু’বছর আগে বিদেশে এই চাল যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চাষিরা ধান বিক্রিই করতে পারেনি। পরে কম দামে ধান বিক্রি করে।চাষিরা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে গোবিন্দভোগ ধান চাষে উৎসাহ কমে যাবে। এবার আলুর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। হিমঘরে রাখা আলু আড়াই থেকে তিন টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা আলু বিক্রি করে ধান চাষের খরচ জোগাড় করতেন। সেটা হচ্ছে না। পাটেরও একই অবস্থা। পূর্বস্থলী এলাকায় বেশি পাট চাষ হয়। এবার গোবিন্দভোগ ধানের দামও নামতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় চাষিদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন অনেকেই।