নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ‘কন্ট্রোলরুমে ফোন করে কোনও সাহায্য মিলছে না। সশরীরে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।’ চোখের কোল বেয়ে নেমে আসা জল মুছে উদভ্রান্তের মতো কথাগুলো কোনওমতে বললেন সুমন পাল। সুমনের মা ৫৪ বছর বয়সি সুমিত্রাদেবী কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন স্থানীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে। ২৯ তারিখ মাঝরাতে পুণ্যস্নানে বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের লোকজন। সঙ্গে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা গিয়েছে। কিন্তু তাঁরা কেউই সুমিত্রাদেবীর কোনও খবর দিতে পারেননি। ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না তাঁকে।
Advertisement
রানাঘাট তলপুকুরপাড়ার বাসিন্দা সুভাষ পালের স্ত্রী সুমিত্রা পাল গত ২৭ তারিখ স্থানীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে পুণ্যলাভের আশায় রওনা দিয়েছিলেন প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে। তাঁর একমাত্র ছেলে সুমন বলেন, এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কুম্ভে অমৃতস্নান করতে গিয়েছিলেন মা। এখানে ট্রেনে ওঠা থেকে প্রয়াগরাজ পৌঁছনো পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শেষবার কথা হয় ২৮ তারিখ রাত সাড়ে দশটা নাগদ। ২৯ তারিখ ভোরবেলা মৌনী অমাবস্যার স্নানে নামার কথা ছিল তাঁর। তখন থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরাও ঠিক করে কিছু বলতে পারছেন না। কোন ঘাট দিয়ে মা নেমেছিলেন, পরে উঠেছেন কিনা, কিছুই বলতে পারছেন না তাঁরা।
মৌনী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে মহাকুম্ভে মহা বিপর্যয়ের খবর শোনার পর থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছিল সুভাষ পালের বাড়িতে। খবর নিতে শুরু হয় ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা। কিন্তু একে একে পাড়ার পুণ্যার্থী দলটির প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও সুমিত্রাদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর ছেলে সুমন পাল। এরপর বুধবার থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই উৎকণ্ঠা বেড়েছে পালবাড়িতে। বৃহস্পতিবার তালপুকুরপাড়ার ওই বাড়ির পরিস্থিতি দেখে সহজেই অনুমান করা সম্ভব, দীর্ঘ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ঝড়ঝাপটা নেহাত কম যায়নি তাঁদের উপর দিয়ে। কী পরিস্থিতি? চোখের জল সামলে যোগীরাজ্যের অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সুমন। বললেন, ন্যূনতম সহযোগিতা পাচ্ছি না কন্ট্রোলরুমে ফোন করে। একটি নম্বর জোগাড় করে ফোন করেছিলাম। তাঁরা বলছেন, তাঁদের কাছে থাকা তালিকায় নাকি মায়ের নাম নেই। সেটি ছাড়াও আরও ২৫টা ক্যাম্প রয়েছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ফোন নম্বর আমাকে বলা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, মায়ের সন্ধান পেতে গেলে আমাকে প্রয়াগরাজে গিয়ে কন্ট্রোলরুমে সশরীরে যোগাযোগ করার কথা বলা হচ্ছে। এমন অব্যবস্থার মাঝে মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন পালবাড়ির সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের সহযোগিতা করুক বলেও আর্জি জানাচ্ছেন নিরুপায় ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিত্রা দেবীর স্বামী সুভাষ পালের রানাঘাটে একটি স্টেশনারি দোকান রয়েছে। ছেলে সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সেই দোকান সামলান সুভাষবাবু। সুমিত্রাদেবী ছাড়াও পরিবারে রয়েছেন সুমনবাবুর স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তান। প্রথমবার পরিবারের লোকজনকে ছেড়ে একা রাজ্যের বাইরে গিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়া। মৌনী অমাবস্যার স্নানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনার পর থেকেই প্রমাদ গুনছে পরিবারটি। আদৌ কি সন্ধান মিলবে সুমিত্রাদেবীর? আপাতত ভাগ্যদেবতার উপরই ভরসা রাখছে অসহায় পরিবারটি। আর ভরসা এ রাজ্যের সরকার।
মৌনী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে মহাকুম্ভে মহা বিপর্যয়ের খবর শোনার পর থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছিল সুভাষ পালের বাড়িতে। খবর নিতে শুরু হয় ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা। কিন্তু একে একে পাড়ার পুণ্যার্থী দলটির প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও সুমিত্রাদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর ছেলে সুমন পাল। এরপর বুধবার থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই উৎকণ্ঠা বেড়েছে পালবাড়িতে। বৃহস্পতিবার তালপুকুরপাড়ার ওই বাড়ির পরিস্থিতি দেখে সহজেই অনুমান করা সম্ভব, দীর্ঘ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ঝড়ঝাপটা নেহাত কম যায়নি তাঁদের উপর দিয়ে। কী পরিস্থিতি? চোখের জল সামলে যোগীরাজ্যের অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সুমন। বললেন, ন্যূনতম সহযোগিতা পাচ্ছি না কন্ট্রোলরুমে ফোন করে। একটি নম্বর জোগাড় করে ফোন করেছিলাম। তাঁরা বলছেন, তাঁদের কাছে থাকা তালিকায় নাকি মায়ের নাম নেই। সেটি ছাড়াও আরও ২৫টা ক্যাম্প রয়েছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ফোন নম্বর আমাকে বলা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, মায়ের সন্ধান পেতে গেলে আমাকে প্রয়াগরাজে গিয়ে কন্ট্রোলরুমে সশরীরে যোগাযোগ করার কথা বলা হচ্ছে। এমন অব্যবস্থার মাঝে মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন পালবাড়ির সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের সহযোগিতা করুক বলেও আর্জি জানাচ্ছেন নিরুপায় ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিত্রা দেবীর স্বামী সুভাষ পালের রানাঘাটে একটি স্টেশনারি দোকান রয়েছে। ছেলে সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সেই দোকান সামলান সুভাষবাবু। সুমিত্রাদেবী ছাড়াও পরিবারে রয়েছেন সুমনবাবুর স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তান। প্রথমবার পরিবারের লোকজনকে ছেড়ে একা রাজ্যের বাইরে গিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়া। মৌনী অমাবস্যার স্নানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনার পর থেকেই প্রমাদ গুনছে পরিবারটি। আদৌ কি সন্ধান মিলবে সুমিত্রাদেবীর? আপাতত ভাগ্যদেবতার উপরই ভরসা রাখছে অসহায় পরিবারটি। আর ভরসা এ রাজ্যের সরকার।



