নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনগণনার ‘চাপ’ই কারণ। পিছিয়েই যাচ্ছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। বুধবার বিকাশ ভবনে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের একথা জানান স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, ‘জনগণনার জন্য দু’টি পরীক্ষা পিছতেই হবে। পর্ষদের প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী মাধ্যমিক হবে কি না, কবে উচ্চ মাধ্যমিক হবে, সেগুলি আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ তবে তিনি যোগ করেন, এর জন্য পরীক্ষার্থীদের অন্যত্র ভরতি হতে সমস্যা হবে না। যথাসময়ে ফলপ্রকাশ করে দেওয়া হবে।
এসআইআর থেকে নির্বাচন, তারপর এখন জনগণনার কাজেও শিক্ষকদের নিয়োগের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যে আনুমানিক ৪ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। এটা কমবেশি হতে পারে। এত বেশি মানবসম্পদ আর কোনো দপ্তরে নেই। তাই শিক্ষকদের নিতে হচ্ছেই। তবে, মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিবকে জানিয়েছি, যথাসম্ভব কম শিক্ষক নিয়েই যাতে এই কাজগুলি করা যায়।’ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনগণনার কাজও যে দেশের অগ্রগতি এবং সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনার জন্য জরুরি, সেটা মনে করিয়ে দেন তিনি। যদিও, মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় খুশি নয় শিক্ষক মহল। তাঁরা এখনও যথাসময়ে পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে।
এদিন মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে তৃতীয় ভাষাগুলির (সংস্কৃত, হিন্দি, আরবি) বই দেবে রাজ্য সরকার। এতদিন তা দেওয়া হত না। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির সিলেবাস তৈরি হয়েছে। তাতে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ডেটা সায়েন্স, কোডিং এবং এআইয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলি থাকবে। এবার থেকে এই বিষয়ে পরীক্ষাও দিতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। নতুন বইগুলিতে সংবিধান নির্ধারিত মৌলিক অধিকার, জাতীয় গান বন্দে মাতরমের সবক’টি পংক্তি ছাপানো রয়েছে।
এদিকে, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন তৈরি হওয়া প্রায় সাড়ে চার হাজার শূন্যপদ যুক্ত করে নিয়োগের দাবি জানিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন করছিলেন টেট উত্তীর্ণরা। মন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন, সেই দু’টি শূন্যপদ যোগ করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে। এছাড়াও, কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসা ঠেকানোর দাবিও নাকচ করে দেন তিনি। জানান, এই সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা যায় না। একইভাবে আন্দোলনরত উচ্চ মাধ্যমিকের পার্ট টাইম শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি বা স্থায়ীকরণ নিয়েও কোনো আশ্বাস দেননি তিনি। দেখা করতে আসা প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, তাঁরা যেহেতু স্কুলের মাধ্যমে নিযুক্ত, তাই তাঁদের বিষয়ে সরকারের সরাসরি কিছু করার নেই। তবে ঊর্ধ্বতন স্তরে এই দাবিটি পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, যত বঞ্চিত অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হলে ২০ বছরে কোনো বেকার যুবক-যুবতী চাকরি পাবেন না।



