নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাম্প অপারেটর পদে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। উদয়শংকর মাইতি নামে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে পদ্মের বিধায়ক সুব্রত পাইকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শিল্যাবেড়িয়ার বাসিন্দা অঞ্জন মণ্ডল। অঞ্জনবাবু পেশায় ভ্যানচালক। তাঁর ছেলে মাধ্যমিক পাশ করেছে। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির কাছে জল জীবন মিশন প্রকল্পের রিজার্ভারে পাম্প অপারেটর পদে ছেলেকে নিয়োগের জন্য ২০২৩সালে তিনি উদয়শংকরবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই নেতার কথায় তিনি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ২লক্ষ ৩০হাজার টাকা দেন। কিন্তু, তাঁর ছেলের বদলে খড়িপুকুরিয়া গ্রামের এক যুবক সেই কাজ পেয়েছেন। এরপর বারবার চাইলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
খেজুরির বিধায়ক সুব্রত পাইক বলেন, জল জীবন মিশনে লোক নেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। টাকা লেনদেনের কিছু তথ্যও পেয়েছি। এবিষয়ে উদয়শংকরবাবুর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি টাকা নেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। উদয়শংকরবাবু বলেন, আমি কোনো টাকা নিইনি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার অধীন শিল্যাবেড়িয়া গ্রামে অঞ্জন মণ্ডলের বাড়ি। তাঁর একমাত্র ছেলে মঙ্গলদীপ ২০২৪সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। অঞ্জনবাবুর অভিযোগ, দফায় দফায় ২লক্ষ ৩০হাজার টাকা উদয়শংকরবাবুকে দিয়েছেন। গ্রামের পাঁচ-ছ’জনের কাছ থেকে ধার নিয়ে ওই টাকা দিয়েছিলেন। কখনো পঞ্চায়েত সমিতির অফিস, আবার কখনো ওই নেতার বাড়িতে গিয়ে টাকা দেওয়া হয়েছে। তার মোবাইলে রেকর্ডিংও আছে।ওই ভ্যানচালক বলেন, এত টাকা দিলেও আমার ছেলে কাজটা পায়নি। ধার নেওয়া টাকা এখন সুদে-আসলে প্রায় চারলক্ষে ঠেকেছে। তাই ছেলে রোজগারের জন্য কলকাতায় থাকছে। আমি টাকা ফেরতের জন্য বারবার ঘুরলেও লাভ হচ্ছে না। উলটে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অঞ্জনবাবু জানান, একমাস আগে তিনি বিধায়কের পাশাপাশি দলের মণ্ডল সভাপতি সূর্যকান্ত দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁরা ধৈর্য ধরতে বলেছেন। এনিয়ে উদয়শংকর মাইতির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে কথা দিয়েছেন। কিন্তু, এখনো টাকা ফেরত মেলেনি।



