Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ির টাকা পেতেই চোপড়া ব্লকে ঘর তৈরির প্রস্তুতি

উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছছে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা। আর সেই টাকা হাতে পেতেই চোপড়া ব্লক জুড়ে শুরু হয়েছে ঘর তৈরির ব্যাপক তোড়জোড়।

বাংলার বাড়ির টাকা পেতেই চোপড়া ব্লকে ঘর তৈরির প্রস্তুতি
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চোপড়া: উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছছে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা। আর সেই টাকা হাতে পেতেই চোপড়া ব্লক জুড়ে শুরু হয়েছে ঘর তৈরির ব্যাপক তোড়জোড়। ব্লকের হাজার হাজার মানুষ ঘর তৈরির কাজে হাত দেওয়ায় বছরের শুরুতেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয় রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, চোপড়া ব্লকের ১১ হাজার উপভোক্তা আবাসের টাকা পেয়েছেন। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরেই নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজে নেমে পড়েছেন সকলে। বর্ষার সময় ভাঙাচোরা বা কাঁচা ঘরে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল এলাকার বহু পরিবারকে। তাই এবার বর্ষা আসার আগেই মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে মরিয়া বাসিন্দারা। 
কালাগছ এলাকার বাসিন্দা রাকেশ রায় বলেন, অনেক কষ্টে দিন কাটাতাম। মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। টাকা পেতেই দেরি না করে ইট বালি কিনে ফেলেছি। চোপড়া জুড়ে একযোগে ঘর তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় রাজমিস্ত্রিদের চাহিদা এখন তুঙ্গে। নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় মিস্ত্রিদের। দাসপাড়ার রাজমিস্ত্রি আমিরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যেই আটটি ঘরের বরাত পেয়েছি। কাজের চাপে সহযোগী শ্রমিক বাড়াতে হয়েছে। অন্যদিকে, মাঝিয়ালি এলাকার রাজমিস্ত্রি ভবেশ বর্মন পেয়েছেন ১২টি ঘরের বরাত। তিনি বলেন, ভালো শ্রমিকের অভাব রয়েছে। দক্ষ লোক ছাড়া কাজ ধরলে সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। একই সুর শোনা গেল চোপড়া পঞ্চায়েত এলাকার জরিফুল ইসলামের গলায়। তিনি বলেন, বর্ষার মরশুমে হাতে কাজ ছিল না। এখন দুপুরের খাবার খাওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছি না। বাড়তি পরিশ্রম করে সারাবছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াই এখন লক্ষ্য।
শুধু মিস্ত্রিরাই নন, খুশির হাওয়া নির্মাণ সামগ্রীর বাজারেও। বালি, পাথর ও ইটের কারবারিরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। কাঁচাকালী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত ছ’মাসে যা ব্যবসা হয়নি, আশা করছি আগামী কয়েক দিনেই সেই ক্ষতি সামলে ওঠা যাবে। এদিকে ঘর তৈরির কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। এবিষয়ে চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কণিকা ভৌমিক বলেন, প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে কাজ শুরু করলে তবেই পরবর্তী কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে। উপভোক্তাদের যে কোনো সমস্যা বা পরামর্শের জন্য প্রশাসন সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ