নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: উলটো রথ উপলক্ষ্যে গোপীবল্লভপুরের গুপ্ত বৃন্দাবনে এখন সাজো সাজো রব। এই ধর্মীয় স্থান বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে দ্বিতীয় বৃন্দাবন নামে পরিচিত। উলটো রথ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে দূরদূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টের সময় কাপাসিয়া মাসির বাড়ি থেকে রাধাগোবিন্দ জিউর বিগ্ৰহ নিয়ে রথ বের হবে।
বৈশাখ মাসের অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে কাঠ সংগ্ৰহের মাধ্যমে এই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়। সংগৃহীত শাল, পিয়াল বা সেগুন কাঠের বিশেষ পুজো হয়। পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রার দিন সুবর্ণরেখা নদীর জল, দুধ, মধু, ঘি দিয়ে বিগ্ৰহকে স্নান করানো হয়। স্নানপর্বের পর রাধাগোবিন্দ কয়েকদিন নিভৃতবাসে যান। এসময় মন্দিরের দরজা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে। বিগ্ৰহকে ভেষজ পাচন দেওয়া হয়।
ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে বৈষ্ণব সাধক শ্যামানন্দ মহাপ্রভু ও তাঁর প্রধান শিষ্য রসিকানন্দ মুরারীর হাত ধরে গুপ্ত বৃন্দাবনের রাধাগোবিন্দ জিউর বিগ্রহ নিয়ে রথযাত্রার সূচনা হয়। পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সঙ্গে এখানকার রথযাত্রার আচার-অনুষ্ঠানের সাযুজ্য রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মন্দির লাগোয়া এলাকায় মেলা বসেছে। পুলিশের তরফে এলাকায় সিসি ক্যামেরা, নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক কল্যাণ বারিক বলেন, এটা শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা। প্রতিবছরের মতো এবারও ধুমধাম করে উৎসব হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে আমাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রৌঢ় বাসিন্দা স্বরূপ মহাপাত্র বলেন, রথযাত্রা এখানকার প্রধান উৎসব। শতাব্দীপ্রাচীন এই রথযাত্রার মাহাত্ম্য দূরদূরান্তের মানুষও জানেন।