লাঙলের ফলায় আটকে যাওয়া পেটকাটি মায়ের পুজোর প্রস্তুতি
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: জমি চাষের জন্য মাটি খনন করার সময় বেরিয়ে এসেছিল কষ্টি পাথরের মূর্তি। ব্রিটিশ আমল থেকে সেই মূর্তিতেই পুজো হয়ে আসছে ময়নাগুড়ি শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। মাটির নীচ থেকে পেটকাটা অবস্থায় মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছিল। তাই এখানে মা পেটকাটি হিসাবেই পরিচিত। অনেকে আবার এই দেবীকে পেটকাটি ধূমাবতী মা বলে ডাকেন। 

Advertisement

১৯৪০ সাল থেকে এই পুজো হয়ে আসছে পেটকাটি ধূমাবতী শ্রী শ্রী চণ্ডীমাতা মন্দিরে। অনেকে আবার বলেন মন্দির হওয়ার আগে যেখানে মায়ের মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল সেখানে পুজো শুরু হয়েছিল। কথিত রয়েছে, এই মন্দিরে মনস্কামনা করলে বাসনা পূর্ণ হয়। সেই কারণে দীপান্বিতা কালীপুজোর দিন পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্য থেকেও ভক্তরা এখানে আসেন। 
পেটকাটি ধূমাবতী মায়ের পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অশীতিপর নরেন রায় বলেন, আমার ঠাকুরদা জমি চাষ করার সময় তাঁর লাঙলের ফলায় কিছু আটকে গিয়েছিল। তখন তিনি সেই জায়গার মাটি খুঁড়ে এই প্রতিমা উদ্ধার করেন। এরপর এলাকার লোকজন সেখানেই মায়ের পুজো শুরু করেন। পরবর্তীতে পাটকাঠি, বাঁশ দিয়ে বেড়া বেঁধে ঘর বানিয়ে শুরু করা হয় পুজো। পরে আমার বাবা সহ এলাকার আরও কয়েকজন মন্দিরের জন্য জমিদান করেন। তৈরি হয় পেটকাটি মায়ের মন্দির। এই মন্দির ১৯৪০ সালে স্থাপিত হলেও পুজো কিন্তু তার আগে থেকে হয়েই আসছে। এখানে দেবী চণ্ডীমাতা রূপে পূজিতা হন। প্রত্যেক বছর কালীপুজোর রাতে চণ্ডীমায়ের পুজো হয়, তারপর হয় শ্যামা মায়ের পুজো। হাজার হাজার ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। 
পুজো কমিটির সদস্য প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, আমরা বহু বছর ধরে পেটকাটি এলাকার বাসিন্দারা এই পুজো করে আসছি। এ বছর দু’দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিশুদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক নানান অনুষ্ঠান করা হবে।