নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কালীপুজোর সময় নৈহাটির বড়মা দর্শনে যাতে চোরবাগানের মতো ঘটনা না ঘটে। তার জন্য তৎপর পুলিশ। অন্যদিকে নৈহাটির গঙ্গার ঘাটে দুর্গাপুজোর কাঠামো পড়ে থাকায় গঙ্গায় দূষণ ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। বহু ভক্ত গঙ্গায় স্নান করে বড়মাকে পুজো দেন। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে তা সাফ করার দাবি ওঠে। সেই সংবাদ পেয়ে নৈহাটি পুরসভার পক্ষ থেকে শনিবার কাঠামো তোলার কাজ শুরু হয়েছে। রবিবার সকালের মধ্যে গঙ্গার ঘাট সাফ হয়ে যাবে বলে প্রশাসনের দাবি।
কালীপুজোয় নৈহাটির অরবিন্দ রোডের বড়মা মন্দির চত্বরে বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। প্রায় ছ’লক্ষ দর্শনার্থী দর্শন করতে আসেন, পুজো দেন ও অঞ্জলি দেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দির পরিদর্শন করলেন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং। বড়মার মন্দির ফাঁড়ি ও নৈহাটি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি গঙ্গার ঘাট এবং অরবিন্দ রোড ঘুরে দেখেন। কোন রাস্তা দিয়ে ভক্তরা আসবেন, পুজো দিয়ে কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন তার পরিকল্পনা হয়। পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা আটকাতে সতর্ক নজর পুলিসের।
রবিবার লক্ষ্মীপুজো। এদিন বড়মার কাঠামো পুজো হবে। তারপরই শুরু হবে অরবিন্দ রোডের উপরে ২১ ফুট উচ্চতার মূর্তি তৈরির কাজ। ব্যস্ত রাস্তায় বেশ কয়েকটি বড়ো আকারের প্রতিমা হবে। যার মধ্যে হকার কালী, গাঁজা কালী প্রভৃতি রয়েছে। রাস্তার উপরই সব মণ্ডপ তৈরি হয়। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বছর দু’য়েক আগে বড়মা’র বিসর্জনের দিন একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। তারপর নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ২৯ তারিখ সমন্বয় কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে বড়মা মন্দির কমিটি, পুরসভা, পুলিস সহ পুজোর সঙ্গে যুক্তরা থাকবেন। সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বড়মার পুজোয় প্রচণ্ড ভিড় হয়। প্রায় ছ’লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। বড়সড় বিপত্তি এড়াতে সমস্ত বন্দোবস্ত করা হবে।’ ফের তাঁরা পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন। নৈহাটি স্টেশন থেকে ভক্তরা কীভাবে আসবেন, তা নিয়েও পরিকল্পনা হচ্ছে।



