Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথযাত্রায় কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে জগদ্ধাত্রী আবাহনের সূচনা, উৎসবের আমেজে কৃষ্ণনগর

রথযাত্রার আনন্দের মধ্যে দিয়েই কৃষ্ণনগরে শুরু হয়ে গেল জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি। রথের দিন রাধানগর নতুন বারোয়ারি, নাজিরাপাড়া, মানিকপাড়া, হাটখোলাপাড়া ইত্যাদির মতো বেশকিছু কমিটি কাঠামো পুজো করে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে।

রথযাত্রায় কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে জগদ্ধাত্রী আবাহনের সূচনা, উৎসবের আমেজে কৃষ্ণনগর
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: রথযাত্রার আনন্দের মধ্যে দিয়েই কৃষ্ণনগরে শুরু হয়ে গেল জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি। রথের দিন রাধানগর নতুন বারোয়ারি, নাজিরাপাড়া, মানিকপাড়া, হাটখোলাপাড়া ইত্যাদির মতো বেশকিছু কমিটি কাঠামো পুজো করে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে।

Advertisement

প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, কৃষ্ণনগরে বহু আগে থেকেই এই উৎসবের সূচনা হয়ে যায়। কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে মৃৎশিল্পীরা মূর্তি তৈরির কাজে হাত লাগান। জগদ্ধাত্রী পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল কাঠামো পুজো। মায়ের মূর্তি তৈরির আগে কাঠ, বাঁশ ও খড়ের তৈরি কাঠামোকে পুজো করা হয়। এই রীতিকেই বলা হয় কাঠামো পুজো। এটি মূলত দেবীর আগমনের পূর্বাভাস হিসেবেই ধরা হয়। শুধু শহরেই নয়, রাজ্যজুড়ে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর খ্যাতি রয়েছে। প্রতিযোগিতার বৈচিত্র্য, আলোকসজ্জা, থিমভিত্তিক প্যান্ডেল, মঙ্গলঘট বিসর্জন শোভাযাত্রা, সাং প্রথা– সবমিলিয়ে এই পুজোকে মহোৎসবের রূপ দেয়। রাধানগর নতুন বারোয়ারি কমিটির সদস্য চিরঞ্জিত সরকার বলেন, আমরা ২০২৫ সালে ৬৪তম বর্ষে পদার্পণ করছি। ইতিমধ্যেই রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে কৃষ্ণমাতা মায়ের কাঠামো পুজো শেষ হয়েছে। মূলত জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন পুজো কমিটি সংগঠিত হয়েছে। এবছরের পুজোর থিম ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা চলছে। মানিকপাড়া বারোয়ারির কোষাধ্যক্ষ কৌশিক সরকার বলেন, কৃষ্ণনগরের সবচেয়ে বড় উৎসব জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধনা। আমাদের মা রুদ্রাণী এবছর পঞ্চমবর্ষে পদার্পণ করছে। মায়ের কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে প্রস্তুতি শুরু হল। ঠাকুরের সাজেও চমক থাকবে। এবছর মাকে সাংয়ে করে নগর ঘোরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নাজিরাপাড়া বারোয়ারির সম্পাদক তন্ময় হালদার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে কাঠামো পুজোর মাধ্যমে মায়ের আগমনের শুভ সূচনা হল। এবছর আমাদের পুজো ১৪৭তম বর্ষে পদার্পণ করবে। ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীরা বলেন, এই দিনটা আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কাঠামো পুজো মানেই মূর্তি গড়ার অনুমতি পাওয়া। এরপর থেকেই শুরু হবে মাটির কাজ, রং, সাজসজ্জা। রথযাত্রার উদ্দীপনা ও জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি এখন শহরে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে। এই দুই উৎসব কৃষ্ণনগরবাসীর কাছে শুধু আচার নয়, আবেগও বটে। রথের দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়েই শহরে শুরু হয়ে গেল সেই আবেগের প্রথম অধ্যায়। - নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ