Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্ত্র নয়, বালি চুরির অভিযোগে ধৃত ‘জামুড়িয়ার ত্রাস’ প্রেমপাল

অস্ত্র নাচিয়ে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির খোল অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া, ইত্যাদি গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সামান্য বালি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হল বিজেপির চোখে ‘জামুড়িয়ার ত্রাস’ প্রেমপাল সিংকে।

অস্ত্র নয়, বালি চুরির অভিযোগে ধৃত ‘জামুড়িয়ার ত্রাস’ প্রেমপাল
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তিওয়ারি, আসানসোল: অস্ত্র নাচিয়ে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির খোল অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া, ইত্যাদি গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সামান্য বালি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হল বিজেপির চোখে ‘জামুড়িয়ার ত্রাস’ প্রেমপাল সিংকে। শুক্রবার প্রেমপালকে জামুড়িয়া থানা থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। তোলা হয় আসানসোল আদালতে। তাকে নিয়ে অবশ্য বিজেপির কর্মীদের কোনো তাপ উত্তাপ দেখা যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি খটকা লেগেছে প্রেমপালের বিরুদ্ধে পুলিশের আনা অভিযোগ দেখে। কিছুদিন আগেই প্রেমপালের অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৮০টি গুলির খোল। অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মনোজ দত্ত বলেন, হরেরাম সিংহ তো আগে বিএমএস করত। তারপর তৃণমূল বিধায়ক হয়েছিল। ওঁদের বিজেপি সংযোগ তো প্রথম থেকেই রয়েছে। তৃণমূল-বিজেপি লড়াই যে আইওয়াশ তা প্রথম থেকেই আমরা বলে এসেছি। 

Advertisement

যদিও বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, আমরা কোনো ভাবেই প্রেমপালকে বিজেপিতে জায়গা দেব না। বিজেপির ক্রমাগত চাপের জন্যই প্রেমপালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। 
পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, অবৈধ বালি কারবারের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ গুলির খোল উদ্ধার হওয়ার ঘটনাতেও তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪৪ বছর পর জামু঩ড়িয়ার সিপিএম দুর্গ চূর্ণ করে ২০২১ সালে বিধায়ক  হয়েছিলেন হরেরাম সিং। শ্রমিক নেতা বিধায়ক হওয়ায় প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল জামুড়িয়াবাসীর। কিন্তু সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, উন্নয়নের পরিবর্তে বাসিন্দারা দেখলেন বিধায়ক পুত্রের উন্নয়ন। বাবা এমএলএ, এই পরিচয়েই শাসক দলের শেষ কথা হয়ে ওঠেন প্রেমপাল। 
ছাত্র ও যুব রাজনীতির সঙ্গে যোগ না থাকা প্রেমপাল জেলা তৃণূমলে পদও পেতে শুরু করে। পাশাপাশি অনুগামীদের মাধ্যমে চালায় জামুড়িয়া শাসন। রানিসায়ের মোড়ে এক আইনজীবীর বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর নাবালক পুত্রের স্বংয়ক্রিয় রাইফেল হাতে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এমনকী দলীয় বৈঠকে দলের নেতাদেরই অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে প্রেমপালের বিরুদ্ধে। প্রেমপালকে নিয়ে যে জামুড়িয়াবাসী অতিষ্ট তা বুঝতে পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সতর্ক করেছিলেন। তাতেও পুত্রস্নেহে অন্ধ হরেরাম লাগাম টানতে পারেননি, নির্বাচনের রাশ প্রেমপালের হাতেই দিয়ে রেখেছিলেন। তারই জবাব ভোটবাক্সে দেয় জামুড়িয়াবাসী। আত্মগোপন করে প্রেমপাল। এলাকার সাইডিং থেকে বেসরকারি খাদানের নিয়ন্ত্রক প্রেমপালের বহুলার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ৮০টি গুলির খোল উদ্ধার করে পুলিশ। যাঁর মধ্যে একাধিক গুলির খোল ছিল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের, যেগুলির লাইসেন্স দেওয়া হয় না। অন্যদিকে বিভিন্ন কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে থাকেন প্রেমপাল। যদিও তার আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ