


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : পারিবারিক অশান্তির জেরে গর্ভবতীকে মারধরের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে ঘরেই প্রসব হল গৃহবধূর। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সদ্যোজাত সন্তান হাসপাতালে ভর্তি।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর থানার কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পানশিলা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম সাবিনা বেগম। তাঁর বাড়ির পক্ষ থেকে শ্বশুরবাড়ির পাঁচজনের বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গৃহবধূর শ্বশুর সাজ্জাদ আলিম ও দুই ননদ সাহানারা বিবি ও আনোয়ারা বিবিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আট বছর আগে শ্রীকোলের বাসিন্দা সাবিনার সঙ্গে পানশিলার বাসিন্দা তৌহিদুল রহমানের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সাবিনার উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নানা কারণে অত্যাচার করত। মৃত গৃহবধূ ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সাবিনার বাপের বাড়ির অভিযোগ, দু’-তিন দিন ধরে ঝামেলা চরমে ওঠে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে মারধর করছিল।
এমনকি সোমবার ওড়িশায় কর্মরত স্বামী বাড়িতে ফিরে এসে সাবিনাকে মারধর করে। মঙ্গলবার বিকেলে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতেই তাঁর প্রসব হয়। রক্তক্ষরণ শুরু হলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সাবিনাকে স্থানীয় কমলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সদ্যোজাতর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরই তার বাপের বাড়ি এলাকার প্রচুর লোকজন পানশিলা গ্রামে হাজির হয়ে শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন। যদিও সেখানে পুলিশ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়নি। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাবিনার বাপের বাড়ির লোকজন।