নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে আগামী বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি। সেদিন আগামী অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) বাজেট পেশ করবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পরবর্তী সপ্তাহে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বাজেটের উপর আলোচনা হবে। কিন্তু, সেখানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কোন কোন কাউন্সিলররা বক্তব্য রাখবেন অর্থাৎ বাজেট আলোচনায় অংশ নেবেন, তা বাছাই করতে গিয়ে ফাঁপড়ে পুর পরিষদীয় দল। নিয়ম অনুযায়ী, এই বাছাই পর্ব সামলাতে হয় শাসকদলের মুখ্য সচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে। তবে, কে বলবেন, তা স্থির করেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। কিন্তু গত বছরের বাজেট অধিবেশনে এক মহিলা কাউন্সিলারের ধর্মীয় বিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্য দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। যা নিয়ে ক্ষিপ্ত হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশে ওই মহিলা কাউন্সিলারকে পরবর্তী সময়ে ‘সেন্সর’ও করা হয়। এই বছরও কি সেই কাউন্সিলারকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হবে, তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। অন্যদিকে, উত্তর কলকাতার এক মহিলা কাউন্সিলরও গত বছর বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক হয়নি। তবে, আর জি কর কাণ্ডের জেরে দলের অন্দরে তাঁর পরিবারের অবস্থান নিয়ে ‘সমস্যা’ থাকায়, তাঁকেও বাজেটের উপর বক্তব্য রাখতে দেওয়া হবে কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়।
Advertisement
প্রতি বার বাজেট অধিবেশনের আগে সর্বদল বৈঠক হয় পুরসভায়। সোমবার সেই বৈঠক হয়েছে। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের নেতৃত্বে সেই বৈঠকে শাসকদলের কাউন্সিলারদের পাশাপাশি বিরোধী বাম এবং বিজেপি কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর দু’দিনের বাজেট আলোচনায় বিরোধী সাত জন কাউন্সিলার ও শাসক দলের সর্বোচ্চ ৩০ জন কাউন্সিলার বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। দলের কোন কোন কাউন্সিলররা বলবেন, তা ঠিক করেন চেয়ারপার্সন। কিন্তু, এবারের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে বাড়তি সতর্ক পুর-নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই ২০ জন কাউন্সিলার বাজেটে বক্তব্য রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তবে, ওই দুই মহিলা কাউন্সিলারের থেকে কোনও আবেদন আসেনি। তাই, তাঁদের নাম বক্তা-তালিকায় রাখা হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এ ব্যাপারে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও কিছু বলতে চাননি। যদিও, পুর-দল সূত্রে খবর, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এ ব্যপারে উদার। সকলকেই ‘সুযোগ’ দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি। এ বিষয়ে মালা রায় বলেন, সুবক্তাদের অবশ্যই সুযোগ দেওয়া হয়। সারা বছর মাসিক অধিবেশেনে যাঁরা নিয়মিত অংশে নেন, তাঁরাও অগ্রাধিকারের তালিকায়। কে কী বলবে, সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে, কেউ অসাংবিধানিক কিছু বললে, সেটা ‘এক্সপাঞ্চ’ বা লিপিবদ্ধ না করার ক্ষমতাও চেয়ারপার্সনের রয়েছে।



