সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শুরু হল শ্রীধাম নবদ্বীপে প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীশ্রীতিনকড়ি গোস্বামী মহারাজের তিরোভাব তিথি উৎসব। শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের মণিপুর ঘাট রোডের শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ জিউ মন্দিরে ভাগবত সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে এই উৎসব শুরু হয়। শুক্রবার থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপী ভাগবত গ্রন্থ ব্যাখ্যা করবেন প্রভুপাদ গিরিগোপাল গোস্বামী। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমন মহাপ্রভুর আজ্ঞামালা গ্রহণের মধ্যে দিয়ে এই তিরোভাব উৎসবের সূচনা হয়েছিল। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে নাটমন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতি। পরের দিন রবিবার প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীশ্রী তিনকড়ি গোস্বামী মহারাজের তিরোভাব তিথি। ওই দিন সকালে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা নগর সংকীর্তনে অংশ নেবেন। দুপুরে ৬৪ মহন্তর ভোগ আরাধনার পর সাধুগুরু বৈষ্ণব, ব্রাহ্মণ এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। উল্লেখ্য, প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীশ্রীতিনকড়ি গোস্বামী মহারাজ বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ ও বৃন্দাবনে চটবাবা বা মৌনী বাবা বলেও পরিচিত ছিলেন। কেননা তিনি চট পরিহিত অবস্থায় বৈষ্ণব সাধন ভজন করতেন। এমনকী বহুদিন তিনি মৌনব্রত পালন করেছিলেন। নবদ্বীপের গঙ্গার তীরবর্তী এই মণিপুর ঘাট রোডে রয়েছে তাঁর সমাধিক্ষেত্র। সেই সমাধি ক্ষেত্রের পাশেই তৈরি হচ্ছে ৬০ ফুট উচ্চতার শিব মূর্তি। শাস্ত্রজ্ঞরা বলেন, শিব ছিলেন একজন পরম বৈষ্ণব। তাঁকে ছাড়া সমগ্র বৈষ্ণব সমাজের সাধন ভজন অসম্পূর্ণ। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমাধিক্ষেত্রে তৈরি হবে সুবিশাল রাধাগোবিন্দ মন্দির। এছাড়া প্রভুপাদের সমাধি ক্ষেত্রের পাশে তৈরি হবে ধর্মশালা আর একটি হাসপাতাল।শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ জিউ মন্দিরের সেবায়েত প্রভুপাদ গিরিগোপাল গোস্বামী বলেন, মন্দিরনগরী নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ জিউ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীশ্রী তিনকড়ি গোস্বামী মহারাজ। তাঁর তিরোভাব তিথি উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দেশ–বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত উপস্থিত হয়েছেন।



