Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শনিবার থেকে বন্ধ হল এয়ারপোর্টের রানওয়ে সংলগ্ন মসজিদের নামাজ পাঠ

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সংলগ্ন মসজিদে শনিবার নামাজ পাঠ বন্ধ। নিরাপত্তার কারণে স্থানীয়দের প্রবেশে বাধা। বিস্তারিত পড়ুন।

শনিবার থেকে বন্ধ হল এয়ারপোর্টের রানওয়ে সংলগ্ন মসজিদের নামাজ পাঠ
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিমানবন্দরের ভিতরে রানওয়ে সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদটি সরানোর বিষয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক স্তরে আলাপ-আলোচনা চলছে। কারণ কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের সম্প্রসারণের জন্য মসজিদটি সরানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন এই মসজিদটি সরানোর বিষয়ে একাধিকবার আলাপ আলোচনা করা হলেও, তা আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের মধ্যে থাকা বাঁকড়া মসজিদটি সরানোর বিষয়ে তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। ইতিমধ্যে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির সঙ্গেও এক প্রস্থ আলোচনা হয়ে গিয়েছে। ঘটনাচক্রে শনিবার দেখা গিয়েছে, মসজিদে নামাজ পাঠ হয়নি।

Advertisement

সাধারণত এই মসজিদে স্থানীয় মানুষ নামাজ পাঠ করতে গেলে একটি সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে মূল গেটের সামনে আসতে হয়, তারপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তা পরীক্ষা করে প্রবেশের ছাড়পত্র দেন। এরপর বাসে এয়ারপোর্টের মধ্যে থাকা ওই মসজিদে নামাজ পাঠের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। যতক্ষণ নামাজ পাঠ চলে ততক্ষণ বাইরের গেটটি বন্ধ থাকে। নামাজ পাঠ হয়ে গেলে, নামাজিদের আবার বাসে চাপিয়ে  বাইরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু শনিবার স্থানীয় মানুষজন নামাজ পাঠ করতে গেলে নিরাপত্তা রক্ষীদের তরফে তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত দু-তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মসজিদে যাওয়ার রাস্তাটি খারাপ হয়ে গিয়েছে, সেটির সংস্কারের কাজ চলছে। তাই ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের মধ্যে থাকা এই মসজিদটিকে সরানো অত্যন্ত প্রয়োজন। দরকার হলে বাইরে অন্য কোথাও জায়গা দেখে মসজিদ তৈরি করা হোক। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি সরানো প্রয়োজন আর রানওয়ে সম্প্রসারণও আটকে রয়েছে। প্রসঙ্গত, এদিন ওই মসজিদের আশেপাশে বেশ কিছু বিজেপি কর্মীকেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জমিয়ত উলেমা হিন্দের অন্যতম কর্মকর্তা মুফতি আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, শনিবার এলাকার মানুষ ওই মসজিদে নামাজ পাঠ করতে পারেননি। তবে আমরা সকলকেই বলেছি কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভের রাস্তায় যাবেন না। সবদিক আমরা নজর রাখছি। আইনি পথ আমাদের জন্য খোলা রয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ