


বার্মিংহাম: প্রথম ইনিংসে ২০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬.৪০ ইকনমি রেটে ১২৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ ওভারে ৬.১০ ইকনমি রেটে ৯২ রান। হেডিংলে টেস্টে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা দিয়েছেন ২২০ রান। আর তা মাত্র ৩৫ ওভারে। টেস্টের ইতিহাসে দুই ইনিংসেই ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান আগে কেউ দেননি (উভয় ইনিংসে ন্যূনতম ১৫ ওভার বোলিং)। টেস্টের ইতিহাসে অতীতে কোনও দল পাঁচটি শতরানের পর হারেনি। সেই লজ্জার নজিরও গড়েছে ভারত।
এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করে নিলেন প্রসিদ্ধ। তিনি বললেন, ‘প্রথম ইনিংসে বড্ড বেশি শর্ট ডেলিভারি করেছি। দ্বিতীয় ইনিংসে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে আমি যে লেংথে বল করতে চেয়েছিলাম তা পারিনি। ঢালের সঙ্গে ধাতস্থ হয়ে উঠতে সময় লেগেছিল। রান আটকানোর চেষ্টাও করেছিলাম প্রতিবার। কিন্তু পারিনি। অজুহাত দিচ্ছি না। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটা করা উচিত ছিল। এর সম্পূর্ণ দায় আমার। আশা করছি, পরেরবার এই ভুল হবে না।’
এজবাস্টন টেস্টে যশপ্রীত বুমরাহকে ছাড়াই নামতে পারে ভারত। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে। প্রসিদ্ধ অবশ্য উদ্বিগ্ন নন। তাঁর মতে, ‘কে খেলছে, কে খেলছে না, সেটা বড় নয়। আর অনুশীলনে বুমরাহকে পাশেই পাচ্ছি। ও সবার সঙ্গেই কথা বলছে। এমনকী, প্র্যাকটিসে আসার আগেও আলোচনা হয়েছে বোলিং নিয়ে। আমি ভারতীয় দলের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর রয়েছি। তাই বোলিং নিয়ে কথাবার্তা চলতেই থাকে নিজেদের মধ্যে। তবে অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প হয় না। এটা খেলতে খেলতেই আসে। আর আমরা সবাই খেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
শুভমান গিল বাহিনী যে সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়েও হতোদ্যম নয়, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন প্রসিদ্ধ। বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে মোটিভেশনের অভাব নেই। প্রথম টেস্টের শেষদিন যখন ইংল্যান্ডের জিততে ২০ রান বাকি, তখনও হাল ছাড়িনি। আশা ছিল যে, অবিশ্বাস্য কিছু হতেও পারে। শেষ রান না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়েছি।’
প্রথম টেস্টে পরাজয়ের অন্যতম কারণ লোয়ার অর্ডারের ব্যাট হাতে ব্যর্থতা। প্রথম ইনিংসে টিম ইন্ডিয়ার শেষ ৭ উইকেট পড়েছিল মাত্র ৪১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৩২ রানে। তারমধ্যে মহম্মদ সিরাজ ও বুমরাহর মতো শূন্য রানে আউট হন প্রসিদ্ধও। এই প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছি না। নেট সেশনে আমরা যথেষ্ট খাটছি। ম্যাচে ক্রিজে গিয়ে ব্যাট হাতে আমাদের প্রয়োগ করতে হবে। নিজের স্কিলে ভরসা রাখা জরুরি। তবেই নামের পাশে রান দেখা যাবে।’ কাপ্টেন শুভমানের প্রতি অবশ্য ভরসা রাখছেন প্রসিদ্ধ। তাঁর কথায়, ‘অধিনায়ক হিসেবে যথেষ্ট ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রথম টেস্টে। বোলারদের ব্যবহার করেছে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। কেউ যেন ক্লান্ত না হই, সেদিকে খেয়াল ছিল ওর। সত্যি বলতে কী, দলে দারুণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে গিলের নেতৃত্বে।’