Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেহাল দশায় প্রান্তিক বাইপাস, সোনাঝুরি ও ফুলডাঙার রাস্তা

বোলপুরের চিত্রা মোড় থেকে মকরমপুর বনডাঙা হয়ে লাভপুর পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারের কাজ শম্বুকের গতিতে চলছে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকে গেলেও রাস্তার কাজ শেষ হয়নি।

বেহাল দশায় প্রান্তিক বাইপাস, সোনাঝুরি ও ফুলডাঙার রাস্তা
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরের চিত্রা মোড় থেকে মকরমপুর বনডাঙা হয়ে লাভপুর পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারের কাজ শম্বুকের গতিতে চলছে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকে গেলেও রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। প্রায় তিন বছর ধরে ভোগান্তির শিকার এলাকাবাসী মানুষজন। তারমাঝেই শান্তিনিকেতনের প্রান্তিক বাইপাস, সোনাঝুরি খোয়াই ও ফুলডাঙার রাস্তার অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, রাস্তাগুলি খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির নজর নেই।

Advertisement

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মধ্যে অন্যতম প্রান্তিকের বাইপাস। এই রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ১.৪কিলোমিটার। দুই লেনের রাস্তাটি পূর্ত ও সড়ক দপ্তরের(পিডব্লুডি) বীরভূম-২ ডিভিশনের অন্তর্গত। রাস্তাটি নির্মাণের পর থেকে একবারও সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে, রাস্তায় তৈরি হয়েছে একাধিক ছোট-বড় গর্ত। বিশেষত, সেচদপ্তরের সরকারি গেস্ট হাউসের সামনের বিশাল গর্তে পড়ে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। রয়েছে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কাও।
একইভাবে, সোনাঝুরি খোয়াইয়ের রাস্তাটিও দিন দিন বেহাল হয়ে পড়ছে। তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তা সেচদপ্তরের অধীনে। সংস্কার ও  রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তায় ছোট বড় গর্তের সংখ্যা বাড়ছে। রাস্তাটির পাশেই বইছে ময়ূরাক্ষী সেচ ক্যানালের জল। অথচ, রাস্তায় একেবারেই কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ২০১৫সালে এক কোটি টাকা ব্যয়ে সেচদপ্তর রাস্তাটি পাকা করার পরিকল্পনা নেয়। পরে, খোয়াই হাটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ২০১৯সালে সৌন্দর্যায়নে ১২কোটি টাকা খরচ করে রাস্তাটি ঢেলে সাজানো হয়। কিন্তু, ভারী যানচলাচলের ফলে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেহাল রাস্তায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া, বোলপুর পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ফুলডাঙার চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটির হাল সব থেকে খারাপ। বাম আমলে তৈরি হওয়ার পর ওই রাস্তায় আর কখনও সংস্কার হয়নি বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। গোটা রাস্তাজুড়ে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা আসতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ধীরজ গোয়ালা, তাপস মল্লিক বলেন, ফুলডাঙার মানুষজন সমস্ত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাস্তা এতটাই বেহাল যে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। পথবাতি না থাকায় রাতে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় পড়ে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পুরসভা কবে নজর দেয়, সেদিকেই আমরা তাকিয়ে রয়েছি।
১০দিনের মধ্যে বাইপাসের রাস্তাটির গর্ত বুজিয়ে প্রাথমিক সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন পিডব্লুডির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অর্জুন ভৌমিক। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। পুরো রাস্তাটি সংস্কারে প্রায় ৮০লক্ষ টাকা খরচ হবে। টাকা বরাদ্দ হলে দুর্গাপুজোর পরই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। সোনাঝুরির রাস্তার বিষয়ে সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ললিত সিং বলেন, বিষয়টি নজরে আছে। টাকা বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে। ফুলডাঙার রাস্তার বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করে সংস্কারের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ