প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাংলায় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার (পিএমজিএসওয়াই) চলতি কাজও এবার বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। রাজ্যের ২,০১২ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪২টি ছোট-বড় সেতুর কয়েক হাজার কোটি টাকা দীর্ঘদিন আটকে রাখা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না তারা। কিন্তু ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (এটিআর) জমা না দেওয়া হলে কাজ আটকে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠাল কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। বিষয়টি বাংলাকে বঞ্চনার আরেক অজুহাত বলেই মনে করছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল। কেন্দ্র যেভাবে ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা খাতে রাজ্যের ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছে, তাতে গ্রাম সড়ক যোজনার চলতি কাজ নিয়েও সিঁদুরে মেঘ দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের দাবি, পুরোটাই আসলে কেন্দ্রের রাজনৈতিক অভিসন্ধি। রাজ্যের কোটি কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে কোনও হেলদোল নেই তাঁদের। উল্টে নিত্যনতুন ফিকির খুঁজে শুধু বাংলাকে ভাতে মারার ছক সাজানো হচ্ছে। এছাড়া ওদের আর কোনও কাজ আছে বলে মনে হয় না। তাঁর আরও সংযোজন, এক্ষেত্রেও দেখা যাবে, ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটিআর জমা দেয়নি। কিন্তু তাদের উপর কোনও কোপ পড়বে না।
পিএমজিএসওয়াই’র অধীনে যেসব রাস্তা তৈরির কাজ চলছে, সেগুলি পরিদর্শন করছে ন্যাশনাল কোয়ালিটি মনিটর। গত ২০ আগষ্ট পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই পরিদর্শনের ছ’মাসের মধ্যে পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এটিআর জমা না দিলে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি এবং অর্থ বরাদ্দের জন্য যে (ওমাস) পোর্টাল রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে। এটিআর জমা পড়ল তবেই ফের চালু হবে বরাদ্দ। এটিআর জমা পড়লে পুনরায় বরাদ্দ চালু হওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও কেন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রাজ্য? প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, অতীতে অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, টাকা একবার বন্ধ হলে তা আর চালু হয়নি। হাজারো নথি, হিসেব, তথ্য জমা দেওয়া সত্ত্বেও চালু হয়নি ১০০ দিনের কাজ, আবাস প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ। এক্ষেত্রে তেমন হবে না, হলফ করে বলতে পারছেন না কেউ।
এটিআর দেওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি ধরা পড়াতেই কেন্দ্র এমন কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। তাই এই কাজের দায়িত্বে থাকা স্টেট কোয়ালিটি কো-অর্ডিনেটরদেরও সতর্ক করে নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দেওয়া নিশ্চিত করার নিদান দিয়েছে কেন্দ্র। সতর্ক করা হয়েছে প্রতিটি রাজ্যকেই। প্রসঙ্গত, পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ৬০ শতাংশ ও রাজ্য ৪০ শতাংশ টাকা দেয়। এখনও পিএমজিএসওয়াই ৩-এর বড় অংশের টাকা বাকি রেখেছে কেন্দ্র।