


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে চালু হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা’। প্রকল্পের লক্ষ্য কৃষিক্ষেত্রের আধুনিকীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। প্রকল্পের আওতায় উদ্যান পালন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সহ ১১টি বিভাগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ঝাড়গ্রাম ছাড়াও পুরুলিয়া, দার্জিলিং ও আলিপুর দুয়ারে প্রকল্পটি চালু হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার কৃষি অধিকর্তা মলয়কুমার মেইকাপ বলেন, জেলায় প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলার কৃষিক্ষেত্রের প্রসারে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছি।
ঝাড়গ্রাম জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রধানত সারবছর চাষবাস হয়। জঙ্গল ও পাহাড়ী এলাকার চাষের পরিমাণ তুলনামূলক কম। প্রশাসনের নানা উদ্যোগে জেলায় গত কয়েক বছরে চাষবাসের পরিধি বেড়েছে। প্রকল্পটি চালু হচ্ছে যেসব জেলায় ফসল উৎপাদনের পরিমাণ কম, সেচের জলের অভাব ও ঋণদানের পরিমাণ সীমিত সেইসব জেলায়। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য উন্নতমানের উপকরণ ও কৃষি প্রযুক্তির সহায়তায় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি। ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার ব্যবহার করে বর্ষার জলের ওপর নির্ভরতা কমানো। কৃষকদের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান, জৈব চাষের ওপর জোর দেওয়া। ফসল কাটার পর ফসল সংরক্ষণে জোর দেওয়া। পাশাপাশি গ্ৰামীণ এলাকার যুবক ও যুবতীদের মাছচাষ, পোল্ট্রি ফার্ম ও গবাদি পশু পালনে উৎসাহিত করা। কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পটির বাস্তবায়নে জেলা কৃষিদপ্তরে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা শাসককের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। কৃষিদপ্তর সূত্রের খবর, জেলায় কৃষির প্রসারে যে প্রকল্পগুলি চালু রয়েছে তা আগের মতোই জারি থাকবে। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পগুলোকে এবার অবশ্য এক ছাতার তলায় আনা হবে। জেলায় সেচের জলের অভাব মেটাতে ইতিমধ্যেই ষাটের ওপর চেকড্যাম তৈরি হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে পুকুর খনন করার কাছ চলছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক ভূমিকূপ ব্যবহারযোগ্য করে হচ্ছে। এই কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে। কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। কৃষিঋণ প্রদানের প্রক্রিয়ার সরলীকরণ হবে। জেলায় আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, গবাদি পশুপালনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে।