প্রতিমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতা সীমিত ছিল, জেরায় জানালেন ইন্দ্রনীল, গ্রেপ্তার মাস-আর্টের অন্যতম কর্তাও
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমি তো প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। আমার ক্ষমতা তো সীমিত। তাই দপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের টেন্ডার ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করব কীভাবে! দপ্তর চালানোর ক্ষেত্রেও তাঁর সীমাবদ্ধতা ছিল। দুর্গাপুজো পাশ বিক্রির তদন্তে প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সিটের জেরায় এমনটাই দাবি করছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও তদন্তকারীদের দাবি, এসব বলে গোটা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ইন্দ্রনীল। সেই কারণেই তাঁর আমলে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর যে টেন্ডার দিয়েছিল তার নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তলব করেছে লালবাজার। এদিন সিটের অফিসারদের সামনে হাজিরা দেননি ইন্দ্রনীল-কন্যা। তাঁকে আবার নোটিস ইস্যু করে আজ বৃহস্পতিবার আসতে বলা হয়েছে। হাজিরা এড়ালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও লালবাজার সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে, এদিন রাতে মাস-আর্টের অন্যতম কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেপ্তার করে সিট। 

Advertisement

তদন্তে নেমে সিট জেনেছে, পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা তিনটি সংস্থাকে ১৫০টি টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মন্ত্রী থাকাকালে জিডি ক্রিয়েশন, মাস আর্ট ও থার্ড লাইন ক্রিয়েশন নামক সংস্থাগুলি বিপুল পরিমাণ টাকার বরাত পেয়েছে। 
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের মিষ্টি বিতরণের প্যাকেজিং তৈরি, অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা ব্যানারসহ বিভিন্ন টেন্ডার পেয়েছিল এই তিন সংস্থা। এই সংক্রান্ত নথি জোগাড় করতেই বুধবার পর্যটন দপ্তরে গিয়েছিলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। সেখান থেকে একাধিক নথি তাঁরা সংগ্রহ করেছেন বলেই খবর। সূত্রের খবর, একইসঙ্গে ইন্দ্রনীল-ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যেতি বসুর স্ত্রীকে এবং তাঁদের সংস্থাকেও নোটিস পাঠিয়ে ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁদের তৈরি কোম্পানি, মেয়ের সংস্থা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর  ঘনিষ্ঠদের বরাত পাওয়া কোম্পানিগুলির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এপর্যন্ত তাঁদের ২৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে লালবাজার।