


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফ্যান পার্ক থেকে চোখধাঁধানো লেজার শো। কল্যাণীতে মরশুমের প্রথম ডার্বি আয়োজনে চেষ্টার কসুর রাখেনি আইএফএ। কিন্তু ছোট স্টেডিয়ামে গোড়ায় গলদ। দেশলাই খোপের মতো প্রেসবক্সে ব্রিগেডের ভিড়। সামনের কাচে ধোঁয়াশা। ম্যাচ দেখার উপায় নেই। কাচ পরিষ্কার করবেন কে? সবাই ম্যাচ দেখতে ব্যস্ত। টেবিল, চেয়ারও অপ্রতুল। ঘোড়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকাই ছাড়া উপায় নেই। শাটল ককের মতো এদিক-সেদিক ঘুরতে হয়। ঘরোয়া লিগ বাঁচাতে প্রচার চায় আইএফএ। কিন্তু হ্যাজাকের নীচেই অন্ধকার। বড় ম্যাচ আয়োজনে ন্যূনতম পরিকাঠামো দরকার। গিমিক , চটকে তা ভুলেছেন কর্তারা। এখানেই শেষ নয়, আরও আছে। খেলার অন্তিম লগ্নে বিগড়ে গেল ফ্লাডলাইট। ফলে সংযোজিত সময়ে প্রায় তিন মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ। যদিও আয়োজকদের দাবি, তা নেহাৎই টেকনিক্যাল ফল্ট। এক বালতি দুধে এক ফোঁটা গো চোনা। সাফাই গাওয়ার বদলে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত আয়োজকদের। এই প্রসঙ্গে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের মন্তব্য, ‘সমস্যা প্রচুর। তবু আমাদের আন্তরিকতায় খামতি ছিল না। যুবভারতীর মতো বড় প্রেসবক্স কল্যাণীতে পাওয়া অসম্ভব।’
অতীতে আই লিগের ম্যাচ আয়োজন হয়েছে কল্যাণীতে। মোহন বাগানের আই লিগ জয়ও শিল্পনগরীতেই। কিন্তু ডার্বি এই প্রথম। গত ১৯ জুলাই এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিসি অনুমতি পেতে দেরি হয়। সময়ের অভাবে ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না আইএফএ’র। এর পর ম্যাচ আয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। অফলাইন টিকিট, ব্যাগেজ কাউন্টার থেকে পানীয় জলের বন্দোবস্ত ঢেলে সাজানো হয়। কিন্তু লক্ষ্মীন্দরের বাসরঘরের মতো ছিদ্র থেকেই গেল। পাশাপাশি মাঠের কথাও উল্লেখ করতে হবে। কল্যাণীর সবুজ কার্পেট প্রশংসা আদায় করে নিত তাবড় দলের। কিন্তু বহু ব্যবহারে সেই মাঠ আগের জায়গায় নেই। তুমুল বর্ষায় প্যাচ ওয়ার্ক করে মাঠ সংস্কার হলেও মাটি বেশ নরম। বারবার হড়কে পড়লেন দুই প্রধানের ফুটবলাররা। এরইমধ্যে জেসিন টিকে ও সালাউদ্দিনের চোট নিয়ে বেশ চিন্তায় দু’দলের টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবলের স্বার্থেই জরুরি ভিত্তিতে মাঠের সংস্কার প্রয়োজন।