Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কমছে বিদ্যুতের চাহিদা, দেশে শিল্পোৎপাদনের হাল খারাপ? খোদ মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে প্রশ্ন

উৎপাদন নেই। তাই বিদ্যুতের চাহিদাও নেই। সংসদে সরকারের প্রকাশ করা তথ্যে ধরা পড়ল এমন উদ্বেগজনক প্রবণতা। শিল্পোৎপাদনই অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

কমছে বিদ্যুতের চাহিদা, দেশে শিল্পোৎপাদনের হাল খারাপ? খোদ মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে প্রশ্ন
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ১৯:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উৎপাদন নেই। তাই বিদ্যুতের চাহিদাও নেই। সংসদে সরকারের প্রকাশ করা  তথ্যে ধরা পড়ল এমন উদ্বেগজনক প্রবণতা। শিল্পোৎপাদনই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অথচ বিগত কয়েক বছরে ধরেই শিল্পে বিদ্যুতের চাহিদা বিপুল বৃদ্ধির কোনও লক্ষণ নেই। লোকসভায় এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সরকার একদিকে জানিয়েছে, দেশে বিপুল আর্থিক বৃদ্ধি হচ্ছে। নগরায়ন চলছে, মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটছে। তার জেরে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বিলাসযন্ত্র ক্রয়ের প্রবণতাও। আর ঠিক সেই কার঩ণেই স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সৌভাগ্য, জনমন, গ্রাম জ্যোতি ইত্যাদি নানাপ্রকার প্রকল্প মারফত রাজ্যগুলিকে আরও বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। অথচ এই বিস্তারিত সাফল্য বর্ণনার তালিকায় বিদ্যুৎ চাহিদার যে পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রক দিয়েছে, সেখানে কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে এই বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। বরং তা থমকে গিয়েছে। মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, করোনাকালের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চাহিদার বৃদ্ধিহার ছিল ১০.৭৯ শতাংশ। পরের আর্থিক বছরে, লকডাউন জারির প্রাক্কালে তা ২.৬২ শতাংশে নেমে আসে। করোনাকালের পর ২০২১-২২ সালে সেই বৃদ্ধিহার পৌঁছয় ৯.৩৮ শতাংশে। সব স্বাভাবিক থাকলে পরবর্তী আর্থিক বছরে সেটা আরও বাড়ার কথা। অথচ দেখা যাচ্ছে শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধিহার কমে গেল। ৬.৭২ শতাংশ ছিল বৃদ্ধিহার, করোনাকালের পর যতটা বেড়েছিল, সেই হারের তুলনাতেও কম। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুতের চাহিদার ক্ষেত্রেও এই প্রবণতার বিশেষ বদল ঘটছে না। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় বৃদ্ধিহার কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

Advertisement

এমনিতে খুচরো এবং পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয় প্রতি মাসেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রের আটটি কোর সেক্টরের  মুদ্রাস্ফীতির তথ্যকে ভিত্তি করে সরকার স্থির করে নানাবিধ সিদ্ধান্ত ও নীতি। করোনাকালের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির আঁচে সাধারণ মানুষ নাজেহাল। পণ্য, পরিষেবা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির হার কখনও কমেছে, কখনও বেড়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি দেশের শিল্পবাণিজ্য সেক্টরের হাল হকিকৎ নিয়েও নিয়ম করে পরিসংখ্যান পেশ করে থাকে শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রক। তাতে দেখা গিয়েছে, মাসের পর মাস লাগাতার যে সেক্টরের বৃদ্ধিহার 
সর্বদাই নিরাশজনক, সেটি উৎপাদন সেক্টর। অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প এবং  কৃষি সেক্টরের বৃদ্ধিহার।  দেখা গিয়েছে দেশের কৃষকরা 
কৃষিকে ইতিবাচক স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বহুবার, কিন্তু শিল্পোৎপাদন ক্ষেত্রের বৃদ্ধিহার তলানিতেই রয়ে যাচ্ছে। এবার বিদ্যুৎ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্যেও তারই পুনরাবৃত্তি। এখনও উৎপাদন সূচকের হার ৫৫-৫৭তেই থেকে যাচ্ছে।  এই সীমা ছাড়িয়ে শিল্পবৃদ্ধির জোয়ারের কোনও লক্ষণ নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ