নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উৎপাদন নেই। তাই বিদ্যুতের চাহিদাও নেই। সংসদে সরকারের প্রকাশ করা তথ্যে ধরা পড়ল এমন উদ্বেগজনক প্রবণতা। শিল্পোৎপাদনই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অথচ বিগত কয়েক বছরে ধরেই শিল্পে বিদ্যুতের চাহিদা বিপুল বৃদ্ধির কোনও লক্ষণ নেই। লোকসভায় এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সরকার একদিকে জানিয়েছে, দেশে বিপুল আর্থিক বৃদ্ধি হচ্ছে। নগরায়ন চলছে, মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটছে। তার জেরে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বিলাসযন্ত্র ক্রয়ের প্রবণতাও। আর ঠিক সেই কারণেই স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সৌভাগ্য, জনমন, গ্রাম জ্যোতি ইত্যাদি নানাপ্রকার প্রকল্প মারফত রাজ্যগুলিকে আরও বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। অথচ এই বিস্তারিত সাফল্য বর্ণনার তালিকায় বিদ্যুৎ চাহিদার যে পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রক দিয়েছে, সেখানে কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে এই বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। বরং তা থমকে গিয়েছে। মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, করোনাকালের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চাহিদার বৃদ্ধিহার ছিল ১০.৭৯ শতাংশ। পরের আর্থিক বছরে, লকডাউন জারির প্রাক্কালে তা ২.৬২ শতাংশে নেমে আসে। করোনাকালের পর ২০২১-২২ সালে সেই বৃদ্ধিহার পৌঁছয় ৯.৩৮ শতাংশে। সব স্বাভাবিক থাকলে পরবর্তী আর্থিক বছরে সেটা আরও বাড়ার কথা। অথচ দেখা যাচ্ছে শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধিহার কমে গেল। ৬.৭২ শতাংশ ছিল বৃদ্ধিহার, করোনাকালের পর যতটা বেড়েছিল, সেই হারের তুলনাতেও কম। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুতের চাহিদার ক্ষেত্রেও এই প্রবণতার বিশেষ বদল ঘটছে না। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় বৃদ্ধিহার কমেছে ২ শতাংশের বেশি।



