Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটির আকালে রুজিরুটি বন্ধ, সাহায্য প্রার্থনায় বিধায়কের দ্বারস্থ মৃৎশিল্পীরা

মাটির অভাবে সিউড়ির মৃৎশিল্পীরা বিধায়কের দ্বারস্থ। উৎসবের আগে মাটি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ, দ্রুত সমাধানের দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

মাটির আকালে রুজিরুটি বন্ধ, সাহায্য প্রার্থনায় বিধায়কের দ্বারস্থ মৃৎশিল্পীরা
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: মাটির অভাবে তৈরি করা যাচ্ছে না প্রতিমা। সমস্যা সমাধানে বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও হয়েছে। কয়েক মাস পরেই শুরু হচ্ছে উৎসবের মরশুম। কিন্তু মাটি না পাওয়ায় কপালে হাত সিউড়ির প্রতিমা নির্মাতাদের। সিউড়ির সাজিনা গ্রামের মৃৎশিল্পীরা কয়েকদিন আগে বিধায়কের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের থেকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মাটির সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় পাঁচমাস ধরে মাটি কার্যত পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু মাটি পাওয়া যাচ্ছে তার দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিপাকে পড়েছেন শিল্পীরা। সাজিনা গ্রামের মৃৎশিল্পী রনজিৎ পাল, স্বান্তনা পাল বলেন, প্রতিমা তৈরির মাটি মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে আসে। শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাটি যায় ওই জেলা থেকে। গঙ্গা সংলগ্ন ওই এলাকার মাটি বেশ ভালো। আগে এক ট্রাক্টর মাটির দাম প্রায় ২২ হাজার টাকা পড়ত। এখন যা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। কিন্তু তাও মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অত দাম দিয়ে মাটি কিনে আমরা লাভের মুখ দেখতে পাব না। 

Advertisement

সামনে গণেশ পুজো, লক্ষ্মীপুজো, কার্তিকপুজো তো রয়েছে। আমাদের মূলত ছাঁচের মূর্তি বেশি তৈরি হয়। সেই জন্য গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার মাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাটি পাওয়া না গেলে এই কাজ আমাদের করা সম্ভব হচ্ছে না। দু’-একটি মূর্তি নয়, আমাদের এখানে প্রায় হাজার হাজার ছাঁচের মূর্তি তৈরি হয়। আমরা জেলাশাসক, বিধায়ক সবার কাছেই আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা কোনো পথ দেখাতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আবেদন করেছিলাম। তাতেও কাজ হয়নি। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কোনোদিন এরকম পরিস্থিতি হয়নি। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আমাদের এই সমস্যার শুরু। প্রায় পাঁচ-ছ’ মাস ধরে আমাদের কারখানা বন্ধ। এখন সংসার চালানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের কাছে অনেক প্রতিমার বরাত আসছে, কিন্তু মাটির সংকটে আমরা তা নিতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে করজোড়ে অনুরোধ, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে, সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ