পথশ্রী প্রকল্পের নতুন পিচরাস্তা তৈরির মাত্র তিন মাসের মধ্যে খানাখন্দ! ক্ষোভ
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাস্তা তৈরির মাত্র তিন মাসের মাথায় বেহাল দশায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পথশ্রী প্রকল্পে নির্মিত মুরারই-১ ব্লকের মহুরাপুর গ্রামের একটি নতুন পিচ রাস্তা নিয়ে এখন জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ তুলেছেন খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক ও পিডব্লুডি কর্তার পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে রাস্তাটির কাজ কারা করেছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটের আগে মহুরাপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাকুয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মহুরাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার পিচ করার কাজ শুরু হয়েছিল। মাসতিনেক আগে সেই কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের আক্ষেপ, পাকা রাস্তা তৈরি হওয়ায় তাঁরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে এবার থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবে। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু নির্মাণের সামান্য কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তাটি যেভাবে বেহাল দশা তাতে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এনিয়ে খোদ মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মা, সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রাহি মাসুম রেজা সরব হয়েছেন। তাঁরা ও মহুরাপুর পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা রাজবংশী সহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, জেলাশাসক, এসডিও এবং বিডিওর কাছে লিখিতভাবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ জানিয়েছেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লববাবু বলেন, অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। যার জেরে নির্মাণের কিছুদিন যাওয়ার পর থেকেই রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় বেহাল হয়ে গিয়েছে। 
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে ঠিকাদার রেবতীশঙ্কর সিনহা বলেন, যেসব জায়গায় রাস্তা খারাপ হয়েছে সেখানে মূলত জলনিকাশির সমস্যা রয়েছে। তা জনপ্রতিনিধিদের আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্যা না মেটায় বৃষ্টির জলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দেড়শো মিটার রাস্তা করে না দেওয়ার ফলেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে গ্যারান্টির মধ্যে থাকায় খানাখন্দ দ্রুত ভরাট করে দেওয়া হবে বলে জনিয়েছেন তিনি। জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ)-কে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) প্রসেনজিৎ ঘোষ জানান, রাস্তাটি পিডব্লুডির অধীনে থাকায় অভিযোগপত্রটি সেই দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের আবার বলছি যাতে দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। যদিও পিডব্লুডির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রীতম সাহা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পথশ্রী প্রকল্পের কাজ পিডব্লুডি করে না।