Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুতুলের মতো দেখতে আলু, বিক্রি না হওয়ায় কপালে ভাঁজ কৃষকদের

মাঝমাঠে ঢেকে রাখা হয়েছে কুইন্টাল কুইন্টাল ‘পুতুল’। আসলে সেগুলি আলু হলেও অনেকটা পুতুলের মতো দেখতে। কোনও পুতুলে আবার হাত, পাও বেরিয়ে রয়েছে।

পুতুলের মতো দেখতে আলু, বিক্রি  না হওয়ায় কপালে ভাঁজ কৃষকদের
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মাঝমাঠে ঢেকে রাখা হয়েছে কুইন্টাল কুইন্টাল ‘পুতুল’। আসলে সেগুলি আলু হলেও অনেকটা পুতুলের মতো দেখতে। কোনও পুতুলে আবার হাত, পাও বেরিয়ে রয়েছে। দিনকয়েক আগে মাটি খুলতেই বেরিয়ে আসে এমন অদ্ভুতদর্শন আলু। সেগুলি বিক্রিও হয়নি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে আলু চাষ করে অনেকেই এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। আরামবাগের মলয়পুরের বালিয়া, চকবেসে গ্রামের বেশ কিছু জমিতে এমন আলু ডাঁই করে রাখা আছে। এই ঘটনায় তাঁরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জিও জানিয়েছেন। এব্যাপারে সহ কৃষি অধিকর্তা মৃত্যুঞ্জয় মর্দন্যা বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। সংশ্লিষ্ট বীজের ডিলারকে বলা হয়েছে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে। 

Advertisement

কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে আলুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আলুর এমন অদ্ভুত দর্শন কেন হল, তা বুঝতেই পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে বীজের কারণে এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। 
আরামবাগ মহকুমায় এবার প্রায় ৩৭হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন চাষিরা। এখন আলু তোলা চলছে। আলুর ফলনও বিভিন্ন জায়গায় ভালো হয়েছে। কিন্তু আরামবাগের মলয়পুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকার বহু জমিতে আলু তোলার কাজ শুরু হতেই চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। অধিকাংশ আলু পুতুলের মতো দেখতে। আবার অনেক আলু মাঝখানটা ফেটে গিয়েছে। তারফলে কোনও ব্যবসায়ী ওই আলু কিনতে আসছেন না। তাতে ওই আলু নিয়ে চাষিরা কী করবেন, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না। 
বালিয়া এলাকার চাষি অসিতবরণ সরকার বলেন, ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। সব জমির আলুই পুতুলের মতো দেখতে হয়েছে। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করা হয়েছিল। কীভাবে আলু চাষের খরচ উঠবে তা বুঝতে পারছি না। চকবেসের চাষি শেখ মুকুল বলেন, এক বিঘা ছ’কাঠা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এক বিঘা জমির আলু অদ্ভুত দর্শনের হয়েছে। বাকি ছয় কাঠায় অন্য বীজ লাগানো হয়েছিল। তা ঠিক আছে। 
ভাগচাষি বসন দাস বলেন, খরচ করে আলু চাষ করেছিলাম। জমির মালিককে বিঘাতে ২০ প্যাকেট করে আলু দিতে হবে। কিন্তু এমন আলুর ফলন হওয়ায় তা বিক্রি হচ্ছে না। সারা বছরের সংসার চালানোই আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। একই অভিযোগ রাখহরি দলুই, শেখ গোলাম জিগরিয়াদেরও। তাঁরা বলছেন, এলাকা থেকে পাঞ্জাবের বীজ কেনা হয়েছিল। এমন আলু হওয়ায় তাঁকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। তাই এখন সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। 
মলয়পুরের ওই জমিগুলিতে বিপুল আলু ডাঁই করে রেখে দিয়েছেন চাষিরা। সেই আলু এখন পচতেও শুরু করেছে। এলাকার চাষি মিন্টু দাস বলেন, বহু বছর ধরে আলু চাষ করছি। কিন্তু এবারই প্রথম আমাদের এখানকার আলু এমন অদ্ভুতদর্শন হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ