Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্লাস্টিক বস্তার দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে আলু চাষিরা

এবার রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই হিমঘরে আলু মজুত করা বা সরাসরি বাজারে পাঠানোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বেশি সংখ্যক বস্তা বা প্যাকেটের।

প্লাস্টিক বস্তার দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে আলু চাষিরা
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই হিমঘরে আলু মজুত করা বা সরাসরি বাজারে পাঠানোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বেশি সংখ্যক বস্তা বা প্যাকেটের। প্লাস্টিকের বস্তায় আলু মজুত করা হয়। কিন্তু তার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। একটি বস্তার দাম ছিল ৮-৯ টাকা। সেটা এখন ১৮-২০ টাকায় পৌঁছেছে। একেই প্রচুর ফলনের জন্য চাষিরা আলুর দাম কম পাচ্ছেন, তার উপর প্যাকিংয়ের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংকট বেড়েছে। 

Advertisement

রাজ্যজুড়ে ছোটোখাটো কারখানায় প্লাস্টিক দানার কাঁচামাল এনে আলু রাখার বস্তা তৈরি করা হয়। দামবৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অজুহাত দিচ্ছেন এক শ্রেণির বস্তা প্রস্তুতকারক। প্লাস্টিক বস্তা তৈরির কাঁচামালের জোগান কমে গিয়েছে বলা হচ্ছে। তবে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, কাঁচামালের অভাবের যেকথা বলা হচ্ছে সেটা ঠিক নয় বলেই মনে হচ্ছে। আসলে আলু প্রচুর ফলন হওয়ায় তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। চাষিদের স্বার্থে এটা বন্ধ হওয়া উচিত। চটের বস্তায় আলু প্যাকিং হয় না। কারণ তার দাম পড়ে যায় ৪০ টাকা। তাছাড়া প্লাস্টিকের বস্তায় আলু সংরক্ষণ করতে সুবিধা হয়। 
খোলাবাজারে আলুর দাম এমনিতেই পড়ে গিয়েছে। চাষিরা মাঠে জ্যোতি আলু এখন ৪-৫ টাকা কেজি দরে বেচছেন। আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা স্বীকার করেছেন, এবার ব্যবসায়ীদের আলু কিনে হিমঘরে মজুত করার আগ্রহ কম। আগ্রহ কমে যাওয়ার একটি বড়ো কারণ গতবছরের প্রচুর লোকসান। পরে লাভ করার আশায় গ্রামের অনেক সম্পন্ন ব্যক্তি আলুক্রয়ে টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু গত মরশুমের লোকসানের জন্য তাঁরা আগ্রহ হারিয়েছেন। এবছর আলুর যে ফলন হয়েছে তা ব্যাপক। তাই হিমঘরে আলু রেখে আগামীদিনে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই। চাহিদা কম থাকায় বাজার দর পড়ে গিয়েছে।
রাজ্য সরকার সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে চাষির কাছ থেকে আলু কেনা শুরু করলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ী মহল। কয়েকদিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আলু কেনার জন্য হিমঘর মালিকদের ব্যাংকঋণ প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। হিমঘর থেকে নির্ধারিত সরকারি দরে আলু কেনা হলে তা কত দামে বিক্রি করতে হবে তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি উ঩দ্যোগে আলু কেনার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা আরো বাড়ানো হতে পারে। ফলে লাভজনক দাম পাওয়ার জন্য চাষিরা আরো কিছুটা সময় পাবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ