নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হিমঘরে রাখা আলুর বন্ডের দাম আরও কমল। ৫০ কেজি আলুর বস্তার বন্ড ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ চাষিরা প্রতি কেজিতে দু’ থেকে আড়াই টাকা দাম পাচ্ছেন। চাষিদের বক্তব্য, সরকার এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা ক্ষীণ। এখনো প্রতিটি হিমঘরে প্রচুর আলু মজুত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতেও ‘বাম্পার’ ফলন হয়েছিল। তাই ভিন রাজ্যেও আলু যাচ্ছে না। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভাল দাম পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাষিরাও হিমঘরে আলু রেখেছিলেন। এই সময় আলু বিক্রি করে অনেকেই ধান চাষ করেন। সেই খরচ জোগাড় করতেও চাষিদের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, এরকম পরিস্থিতি আগে খুব বেশি হয়নি। বাইরের রাজ্যে আলু না পাঠালে দাম বাড়বে না। হিমঘরে এরাজ্যের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি আলু মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে চাষিরা আলু চাষে উৎসাহ হারাবেন। প্রতি বছর পুজোর আগে দাম ওঠে। এবার সেই সম্ভবনা দেখছি না।
আলু চাষি শম্ভু ঘোষ বলেন, সারের দাম বেড়ে চলছে। অথচ ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতি বছরই আলু চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কোনো কোনো বছর প্রকৃতির খাম খেয়ালিপনায় চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কোনো বছর ফলন বেশি হচ্ছে। আলু নিয়ে সরকারের ভাবনা চিন্তা করা দরকার।
চাষিরা বলেন, আলু থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরি হয়। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে জোর দেওয়া দরকার। সেটা হলে চাষিরা দাম পাবেন। তা না হলে ফড়েরা ফায়দা তুলবে। পাশাপাশি সারে ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। আলু চাষের জন্য ১০.২৬.২৬ সার বেশি দরকার হয়। এই সারের দাম প্রায় বছরই বেড়ে চলছে। এছাড়া অন্যান্য কীটনাশকের দাম বাড়ছে।
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, আগের সরকারের ভুল নীতির জন্য চাষিদের খেসারত দিতে হচ্ছে। কয়েক বছর ভিনরাজ্যে আলু পাঠাতে দেওয়া হয়নি। তারফলে ওই রাজ্যগুলি বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া আলু থেকে অন্যান্য খাদ্য সমগ্রী তৈরি করা নিয়েও আগের সরকার ভাবনা চিন্তা করেনি। আমাদের সরকার কৃষক দরদী। ধানের সহায়ক মূল্য বাড়ানো হয়েছে। আলু চাষিদের জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প আনা হয়েছে। আগামী দিনে চাষিদের আর কম দামে আলু বিক্রি করতে হবে না। তাঁরা নায্য দাম পাবেন।