


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বিধানসভা ভোটের আগে বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচার শুরু করেছিল। রাজনৈতিক মহল মনে করে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সরকার গঠনের পিছনে এই ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচারের গভীর প্রভাব ছিল। এবার ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাদবপুরের দেওয়ালে ফুটে উঠেছে নতুন স্লোগান। পোস্টারে লেখা, ‘বিজেপিকে ০ দিন’। এই পোস্টার কারা বা কোন সংগঠনের তরফে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো উল্লেখ নেই সেখানে।
পোস্টারে ছড়া কেটে আরও লেখা হয়েছে, ‘বাতিল ভোটের নির্বাচন, করছে কারা? চোর্বাচন?’ এর পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ বিচারাধীন ও বাতিল ভোটারের নাম বাদ না দিয়ে ভোট করার দাবিও তোলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এই ধরনের পোস্টার আসলে তৃণমূলেরই সুবিধা করে দেবে? তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘সিপিএম বা কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের মতের অমিল রয়েছে। কিন্তু বিজেপি কমিশনকে বাধ্য করেছে বাঙালিকে হেনস্তা করতে। এটা তৃণমূলের পোস্টার নয়। এই সময়ে দাঁড়িয়ে কাদের বিরুদ্ধে আছি, সেটাই বড় কথা।’ ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ইতিমধ্যে বিচারাধীন ভোটারদের বিভিন্ন মঞ্চ তৈরি হয়েছে। ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মারুফ হোসেন। তিনি এই নতুন পোস্টারের বিষয়ে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন, কোন দল তাদের শুধু ভোটাধিকার নয়, নাগরিকত্ব নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে। অনেক ছোটো ছোটো গোষ্ঠী, সংগঠন, মঞ্চ, দল, সাধারণ মানুষ এবার যুক্ত হয়েছেন।’ গতবার ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচারে শামিল হয়েছিল লিবারেশনও। এ বছর তারা বামফ্রন্টের সঙ্গে। ফলত এই প্রচারে ছোটো বাম দলগুলির উপস্থিতি এবার দলগতভাবে অন্তত নেই। এবারের আন্দোলন অনেক বেশি সাধারণ মানুষের। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘কে পোস্টার দিয়েছেন, জানি না। বিজেপির বিরুদ্ধে পোস্টারে সমর্থন আছে। কিন্তু মোস্তারি বানু প্রথম সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তৃণমূল আগে করল না কেন?’ মারুফ বলেন, ‘মানুষ বিচার করবেন, কাকে ভোট দেবেন। আমরা শুধু বলছি, বিজেপিকে শূন্য দিন। ভোট আউট বিজেপি।’ -নিজস্ব চিত্র