Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সিজেপির নামে পড়ল পোস্টার

বিশ্বভারতীর বিনয় ভবন ও সঙ্গীত ভবনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার পড়ল।

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সিজেপির নামে পড়ল পোস্টার
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকমল দালাল, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বিনয় ভবন ও সঙ্গীত ভবনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার পড়ল। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ও আশ্রম এলাকার বিভিন্ন দেওয়ালে ককরোচ জনতা পার্টির নামে একাধিক পোস্টার দেখা যায়। সেগুলিতে নিয়োগ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে, পোস্টারে ওঠা এই অভিযোগগুলির কোনওটিরই সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কে বা কারা এই পোস্টার দিয়েছে, তাও জানা যায়নি। তবে, এ নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, এইসব নামহীন পোস্টারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করবে না। 

Advertisement

পোস্টারে বিনয় ভবনের এডুকেশন বিভাগের মিউজিকের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ওই পদে নিয়োগ পাওয়া অমৃতা সরখেলের বিএড বা এমএড ডিগ্রি নেই। অথচ, এডুকেশন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পেডাগজি পড়ানোর জন্য এই যোগ্যতা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে ‘পারফর্মিং আর্টস’ এর জন্য বিএড বা এমএড প্রয়োজন নেই। কিন্তু পদটি তো এডুকেশন বিভাগের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অব এডুকেশন (মিউজিক)। তাহলে পারফর্মিং আর্টসের নিয়ম এখানে কীভাবে প্রযোজ্য হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কোকরোচ।
এনসিটিইর নিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টারে। সেখানে পারফর্মিং আর্টসের শিক্ষক নিয়োগে নেট বা পিএইচডি নিয়ে আলাদা নিয়মের কথা বলা হয়েছে। তাহলে এই পদে নেট বাধ্যতামূলক করা হল কেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মিউজিকের শিক্ষক এডুকেশন বিভাগের পেডাগজি পড়ালে তাঁর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সদ্য নিয়োগ পাওয়া ওই অধ্যাপকের বাবা বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ছিলেন। সেই সূত্রেই নিয়োগে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছে জেন জি’র কোকরোচ। যদিও এই বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত নিয়ম খতিয়ে দেখেই নিয়োগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সঙ্গীত ভবনে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে ওই ভবনের অধ্যাপক প্রশান্ত ঘোষের ছেলে প্রলিপ্ত ঘোষকে ওবিসি প্রার্থী হিসেবে ইন্টারভিউ তালিকায় নাম থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে পোস্টারে। দাবি করা হয়েছে, পরিবারের বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকার বেশি হলে তিনি ওবিসি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বাবার সঙ্গে থাকেন না এই যুক্তিতে ওবিসি সুবিধা নেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক প্রশান্ত ঘোষের সার্ভিস বুক, বিভিন্ন নথিতে অভিভাবক হিসেবে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকার অনুমোদিত সমস্ত নথি যাচাই করেই এই তালিকা করা হয়েছে।
এই নিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সহ সাম্প্রতিক একাধিক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সঙ্গীত ভবন ও বিনয় ভবনের নিয়োগ নিয়েও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ