সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: গ্রাহকদের সুবিধার জন্য পোস্ট অফিসগুলি এটিএম পরিষেবা চালু করেছিল। গ্রামের বাসিন্দারাও সেই কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় এটিএম কাউন্টার থেকে টাকা তুলতেন। কিন্তু সেই পরিষেবা দেশব্যাপী আচমকা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। পোস্ট অফিসের এটিএম কাউন্টারগুলির ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য পরিষেবা আপাতত বন্ধ’ এই মর্মে নোটিস ঝোলানো হবে। তবে, এই কয়েকদিন পোস্ট অফিসের গ্রাহকদের অন্য ব্যাঙ্কের এটিএমের উপর ভরসা করতে হবে।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানকার এটিএম পরিষেবা চালু রাখার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারাই এটিএমগুলিতে টাকা ভরার কাজ করত। এই সংস্থাটি বিভিন্ন ব্যাঙ্কেও একই পরিষেবা দেয়। ওই সংস্থার সঙ্গে ডাকবিভাগের চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, পোস্ট অফিসের বিভিন্ন পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। খুচরো সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য বিভিন্ন ডাকঘরে কিউআর কোড পরিষেবা চালু হয়েছিল। সেক্ষেত্রে অনলাইনেও টাকা দিতে পারতেন গ্রাহকরা। সেটাও অনেক ডাকঘরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার এটিএমগুলিও অচল হয়ে গেল। কবে থেকে পরিষেবা চালু হবে, তা জানা নেই। নতুন ভেন্ডারের সঙ্গে চুক্তি করার পর পরিষেবা দিতে দীর্ঘ সময় গড়িয়ে যেতে পারে। ততদিন ডাকবিভাগের গ্রাহকদের সমস্যার মধ্যে থাকতে হবে। কয়েকটি ব্যাঙ্কের এটিএম কাজ না করলে আরও সমস্যা হতে পারে। ওই ভেন্ডারের পরিষেবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ জমা পড়ছিল। তারপরই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বলে আধিকারিকদের দাবি।
বর্ধমানের বাসিন্দা পল্লব দাস বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা ব্যাঙ্কের থেকেও পোস্ট অফিসের উপর বেশি নির্ভরশীল। বহু যুবক বাইরে কাজ করতে যান। তাঁদের পরিবারের পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট থাকে। ঘরের কাছে এটিএম পরিষেবা চালু থাকায় তাঁরা যেকোনও সময় টাকা তুলতে পারতেন। কিন্তু আচমকা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। এমনিতেই ছুটির দিনগুলিতে বহু এটিএমে টাকা থাকে না। তারপর একঙ্গে পোস্ট অফিসের সমস্ত এটিএম পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাপক সমস্যা হতে পারে। সবাই অনলাইনে টাকা লেনদেন করতে অভ্যস্ত নয়। গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা এটিএমে গিয়ে টাকা তুলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। পোস্ট অফিসের আর এক আধিকারিক বলেন, নতুন ভেন্ডারের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, আগামী দিনে আরও বহু গ্রামীণ এলাকায় এটিএম পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা পোস্ট অফিস চত্বর বা অন্য জায়গাতেও হতে পারে।