মডেলিংয়ের টোপ দিয়ে নিউটাউনে পর্নোগ্রাফির শ্যুটিং, ধৃত
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ইনস্টাগ্রামে পরিচয়। মডেলিংয়ের টোপ। এবং তারই সুযোগ নিয়ে নিউটাউনের হোটেলে এক তরুণীকে নিয়ে গিয়ে পর্নোগ্রাফির শ্যুটিং করানোর অভিযোগ! এমনকি, সেই ভিডিয়ো ওয়েবসাইটে আপলোডও করে দেওয়া হয়। বীরভূমের সেই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে যাদবপুর থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ক্যামেরা সহ শ্যুটিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মিল্টন প্রামাণিক ওরফে নীল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপে তাঁর বাড়ি। তবে, বর্তমানে তিনি যাদবপুরে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। ধৃতকে জেরা করে শুরু হয়েছে তদন্ত।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বয়স বছর ৩৪। মডেলিংয়ের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একাধিক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তারপর শুরু হত ‘কর্মকাণ্ড’। দিন দুয়েক আগে বীরভূমের ওই তরুণী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেই অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে মডেলিংয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। চলতি মাসের গোড়ার দিকে নিউটাউনের একটি হোটেলে তাঁকে জোর করে পর্নোগ্রাফি ছবির শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণী পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, প্রথমে কিছু সাহসী ছবি তোলার জন্য তাঁকে হোটেলে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে প্রতারণা করে একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। ঘুরিয়ে ওই চুক্তিপত্রে এমন শর্ত রাখা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি পর্নোগ্রাফির শ্যুটিংয়ে সম্মতি দিয়েছেন! পরে ওই চুক্তিপত্রকে হাতিয়ার করেই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করেন অভিযুক্ত এবং পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করতে বাধ্য করেন। 
অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে যাদবপুরে অভিযুক্তের ভাড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে পেশাদার ক্যামেরা, ট্রাইপড সহ ভিডিয়ো তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত মিল্টন নিজেই এই শ্যুটিংয়ের পরিচালক ও প্রযোজক হিসাবে কাজ করতেন। বাজেয়াপ্ত করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, একই কৌশলে একাধিক তরুণীকে নিশানা করেছিলেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, ওই আপত্তিকর ভিডিয়ো বিদেশি ওয়েবসাইটে আপলোড করে মার্কিন ডলারে মোটা টাকা উপার্জন করতেন যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ। সেই মাথাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, এই চক্রের পিছনে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারে। তাই ওই বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিল্টনকে জেরা করে বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নিউটাউনের যে হোটেলে শ্যুটিং করা হয়েছিল, তার কর্তৃপক্ষ ওই বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না, বা কোনোভাবে জড়িত ছিলেন কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।