


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা প্রায় জলাশয়। বর্ষায় উত্তর হাওড়া, শিবপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের রাতের ঘুম উড়ে যায়। সম্প্রতি এই দুই বিধানসভা এলাকায় ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা সাফ করতে নেমে মাথায় হাত হাওড়া পুরসভার। দেখা গিয়েছে, বাম আমলে অপরিকল্পিতভাবে নিকাশির ভিতরের অংশে বসানো হয়েছিল অসংখ্য পাঁচিল। সেগুলিই জল প্রবাহে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচিল ভেঙে সে বাধা দূর করতে নামানো হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরি।
পুরসভা সূত্রে খবর, বাম আমলে নিকাশি তৈরির সময় নালার অন্দরমহলে ইট ও কংক্রিটের একাধিক পাঁচিল তৈরি হয়েছিল। কেন নিকাশির ভিতর পাঁচিল? এর সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ কেউ জানাতে পারেননি। তবে পুরসভায় কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য, পয়ঃপ্রণালীর বিভিন্ন বাঁকে জলের স্রোত যাতে ভিতরের অংশের ক্ষতি না করতে পারে সে কারণে পাঁচিল বসানো হয়ে থাকতে পারে। ইঞ্জিনিয়ারদের আর একটি অংশ বলেন, সচরাচর বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের সময় বাঁশের কাঠামো দিয়ে যেভাবে সাপোর্ট দেওয়া হয়, ঢালাই শুকিয়ে গেলে খুলেও নেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ নিকাশি তৈরির সময়ও সেরকম পাঁচিল সাপোর্ট হিসেবে বসানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেগুলি আর ভাঙা হয়নি। সম্প্রতি হাওড়ার টিকিয়াপাড়া, চ্যাটার্জি হাট ও কদমতলা বাস স্ট্যান্ড এলাকার নিকাশি সাফ করতে নেমে চোখ কপালে ইঞ্জিনিয়ারদের। পাঁচিলগুলির কারণে নালার অন্দরে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা জমে আছে। জল প্রবাহিত হতেই পারছে না। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে কলকাতায় যাদবপুর থানা থেকে নবীনা সিনেমা হল পর্যন্ত ড্রেজিং করার সময় এরকম পাঁচিল আবিষ্কার হয়। তখন ভাগে ভাগে নিকাশি তৈরির কাজ করতে গিয়ে পাঁচিল তোলা হয়েছিল। তা ভাঙতে ভুলে যায় কর্তৃপক্ষ। সে পাঁচিলও নিকাশির জল প্রবাহিত হতে বাধা তৈরি করছিল। এবার সে চিত্র দেখা গেল হাওড়াতেও।
পুরসভার বর্তমান কর্তৃপক্ষের দাবি, বাম আমলে অপরিকল্পিতভাবে পাঁচিল তৈরি হয়েছিল। ব্যাটরা, নটবর পাল রোড, বেলিলিয়াস রোড, টিকিয়াপাড়া ও কদমতলা বাজারে ভূগর্ভস্থ নিকাশির ভিতর কতগুলি পাঁচিল আছে তা এখনও গুনে শেষ করা যায়নি। পাঁচিল ভাঙতে ডুবুরি সহ ব্যবহার হচ্ছে জ্যাক হ্যামার সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘চূড়ান্ত অপরিকল্পনার কারণেই পঞ্চাননতলা, বেলিলিয়াস রোডের মতো এলাকা বর্ষার সময় বানভাসি হয়ে পড়ে। মে মাসের মধ্যে ভূগর্ভস্থ নালায় সমস্ত পাঁচিল ভেঙে ফেলা হবে। আশা করছি, আগামী বর্ষায় জমা জলের সমস্যা হবে না।’