সংবাদদাতা, বজবজ: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলেও ২৪ ঘণ্টা কেউ থাকেন না। এমন অভিযোগ জেলার অধিকাংশ ব্লক হাসপাতালের ক্ষেত্রে শোনা যায়। তবে ব্যতিক্রম ফলতা ব্লক হাসপাতাল। এখানে ৬ জন চিকিৎসক পরিষেবা দেওয়ার জন্য সদা তৎপর। ২৪ ঘণ্টা থাকার জন্য আগ্রহী। কিন্তু তাঁদের থাকার আবাসন থাকলেও তার হাল শোচনীয়। ঘরগুলি স্যাঁতেসেঁতে, জানালা ও দরজা ভেঙে গিয়েছে। শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য। পানীয় জলের সংযোগ নেই। ঘরের ভিতরের দেওয়াল থেকে ছাদের চারপাশে পলেস্তার খসে পড়ছে। গোটা হাসাপাতালের একই হাল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে কার্যত ঘরগুলি বসবাসের একেবারে অযোগ্য। ফলে দিনের শেষে রোগী দেখার পর চিকিৎসকরা কলকাতায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। এ জন্য চিকিৎসকরা বারবার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের মাধ্যমে বিষয়টি উপরতলায় জানিয়েছেন। কিন্তু ফলতা ব্লক হাসপাতালের দুর্দশা দূর করার জন্য কেউ ফিরে তাকাননি। এই অভিযোগ করেন ফলতার বিধায়ক ও রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান দেবাংশু পান্ডা। দেবাংশুবাবু জানান, অনেকটা বড়ো জায়গা নিয়ে হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু কোনো বাউন্ডারি নেই। ফলে তার ভিতরে রাতে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। ভ্যাকসিন ও অন্যন্য টিকা রাখার জন্য এসি ঘর আছে। কিন্তু তা এতই ছোটো যে, অধিকাংশ জিনিস ঘরের বাইরে রাখতে হয়। হাসপাতালের ভিতর রক্ত পরীক্ষার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে ঘর দেওয়া হয়েছিল। তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা এখনও তা দখল করে রয়েছে। হাসপাতালে জলের ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে জলের জার কিনে চলছে। ভিতরে চারপাশজুড়ে অপরিষ্কার। ঠিকাদার নিয়োগপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মীরা বেতন যা পান তাতে তাঁদের চলে না। অভিযোগ ঠিকাদার সংস্থাই বেশিরভাগ টাকা নিয়ে নিচ্ছে। রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী বেড কম। ফলতা ব্লক হাসপাতালে একটিও অ্যাম্বুলেন্স নেই। ফলে রোগীদের ডায়মন্ডহারবার কিংবা কলকাতার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে দিশাহারা অবস্থা হয়। ফলতার মানুষের ভোটাধিকার থেকেই শুধু বঞ্চিত করা হয়নি চিকিৎসা পরিষেবাকে একেবারে লাটে তুলে দিয়েছে ডায়মন্ডহারবার মডেলের উদগাতারা। বিষয়টি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বলা হয়েছে। এর পরিবর্তন দরকার। সেখানে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে জেলাশাসক ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি বিধায়করাও ছিলেন। নিজস্ব চিত্র



