


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা ফেলে যাচ্ছেন প্লাস্টিকের ঘট। তা জমে জমে পাহাড় তৈরি হয়েছে। ঘট সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরসভার কাছে।
প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে এখানে কয়েক লক্ষ তীর্থযাত্রী আসেন। বৈদ্যবাটি নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে পায়ে হেঁটে ঢোকেন তারকেশ্বরে। তারপর মন্দিরের শিবের মাথায় জল ঢালেন। একসময় মাটির ঘট ব্যবহার করতেন সবাই। তবে তা ওজনে ভারী। এবং মাঝরাস্তায় ভেঙে যেত। মন্দির চত্বরে ভাঙা ঘটের টুকরোয় পা কেটে যেত অনেকের। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে মাটির বদলে এসেছে প্লাস্টিকের ঘট। প্রতিদিনই তীর্থযাত্রীরা ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ঘট ফেলে যান তারকেশ্বরে। তা জমে জমে পাহাড় সমান হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দুধপুকুরের ঘাটে তা জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু ঘট ছড়িয়ে পড়ছে দুধপুকুরে। পুকুর থেকে তা সরাতে বসানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত বোর্ড। গতবছর পর্যন্ত কিছু মানুষ ফেলে যাওয়া ঘট সংগ্রহ করে টাকা রোজগার করতেন। এবছর প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মন্দির চত্বরে প্রবেশ নিষেধ সে সংগ্রহকারীদের। সে কারণে চাপ আরও বেড়েছে। নাজেহাল সাফাইকর্মীরা।
পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট ১০০ ট্রাক্টর প্লাস্টিকের ঘট সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণের জন্য বৈদ্যবাটি পাঠানো হয়েছে। ৮০ পুরকর্মী, ঘট সরানোর কাজ করছেন। দুধপুকুরের জল পরিশুদ্ধ রাখতে রাজ্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছিল। তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে বরাদ্দ হয় ১১ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি শ্রাবণী মেলা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অভিযোগ, পুরসভার কর্মীদের ছাড়া রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের কোনো আধিকারিককে বৈঠকে দেখা যায়নি। ৬ আগষ্ট শ্রাবণী মেলা নিয়ে পুরসভার ডাকা বৈঠকে তারকেশ্বর ও বৈদ্যবাটি পুরসভার আধিকারিক মোহনকিশোর চট্টোপাধ্যায় ও কৃষ্ণেন্দু কুণ্ডু তীর্থযাত্রীদের ফেলে দেওয়া ঘট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আধুনিক পরিকল্পনা করার আবেদন করেছিলেন মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে। জানা গিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে লিপিবদ্ধ করে নেন মন্ত্রী। তারকেশ্বরের পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু জানান, প্রতিবছর পাহাড়প্রমাণ প্লাস্টিক সরানো আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তারকেশ্বর মঠের পক্ষ থেকে ১০ জনের মতো কর্মী সাফাইয়ের কাজ করছেন। এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে ৮০ পুরকর্মী। প্লাস্টিকের ঘট কিভাবে মন্দির চত্বর থেকে দ্রুত সরানো যায় সে বিষয়ে আধুনিক পরিকল্পনার প্রয়োজন।