Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাটে মূক ও বধির তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে রাজনৈতিক তরজা

রানাঘাটের বেসরকারি হোমে মূক ও বধির তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে এবার রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে প্রকাশ্যে তরজা চলছে।

রানাঘাটে মূক ও বধির তরুণীর রহস্যমৃত্যুতে রাজনৈতিক তরজা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাটের বেসরকারি হোমে মূক ও বধির তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে এবার রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে প্রকাশ্যে তরজা চলছে। মৃত তরুণীর দেহে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে-এই অভিযোগে বুধবার রানাঘাট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগেই এমন অভিযোগ তুলে বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তরুণীর মৃত্যুর পর প্রথমে দেহ রানাঘাট পুলিশ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ময়নাতদন্ত হয়নি। রাজ্য বা কেন্দ্রের কোনও সরকারি মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত করানোর জন্য মৃতার পরিবারের তরফে লিখিত আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদন মেনে শুক্রবার কল্যাণী এইমসের মর্গে দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টিম ময়নাতদন্ত করেন।
সিপিএমের দাবি, ওই তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে এবং সংবেদনশীল স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। সেকারণে পরিবারের তরফে যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সিপিএমের রানাঘাট ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক কমল ঘোষ বলেন, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলে পরিবারের সন্দেহ হওয়াই স্বাভাবিক। শাসকদল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। শাসকদলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, মৃতদেহ সামনে রেখে রাজনীতি করা সিপিএমের পুরনো অভ্যাস। অতীতেও তারা এমন অভিযোগ তুলেছিল। পরে তা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। এঘটনায় কোনও অপরাধ ঘটে থাকলে দোষীদের নিশ্চয়ই শাস্তি হবে।
২৫বছর বয়সি ওই তরুণী জন্ম থেকেই মূক ও বধির ছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার আশায় বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর তাঁকে রানাঘাটের বেগোপাড়ার একটি বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। অভিযোগ, সেখানে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। ওই যুবতী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে একবার রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই হোমে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে আসার পর যুবতীর অবস্থার আরও অবনতি হয়। ফের তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আশ্রয়কেন্দ্রের কর্ণধার কৌশিক করকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ওই ব্যক্তি পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আপাতত সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ