নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনের রাস্তায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বাড়ছে। কখনও পথচারী, কখনও সাইকেল চালক, কখনও আবার পুলিশকর্মী। বাদ যাচ্ছেন না কেউই। গত ১৯ দিনে নিউটাউনে পৃথক চারটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গিয়েছেন বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায়! সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার তথ্য বলছে, বাস অথবা গাড়ির তুলনায় নিউটাউনে বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু বাড়ছে। অভিযোগ, একাংশের বাইক চালক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছুটছে। হেলমেটও পরছে না। বিশ্ববাংলা সরণি হোক কিংবা সার্ভিস রোড। তাদের কাছে সবই যেন এয়ারপোর্টের রানওয়ে।
রবিবার রাতে ইকোপার্ক ২ নম্বর গেটের কাছে সাইকেল নিয়ে পেট্রোলিং করছিলেন কনস্টেবল যতীশ দেবনাথ (৪০)। সঙ্গে আরও এক কনস্টেবল ছিলেন। হঠাৎ, একটি বেপরোয়া বাইক দ্রুত গতিতে এসে যতীশবাবুর সাইকেলে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার জেরে সাইকেলটি ভেঙে যায়। ধাক্কা লাগে অপর কনস্টেবলের সাইকেলেও। তিনিও জখম হন। যতীশবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের কালনায় তাঁর বাড়ি। ইকোপার্ক থানায় কর্মরত ছিলেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘাতক বাইক চালক চিকিৎসাধীন। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। সুয়োমোটো মামলা রুজু হয়েছে। সুস্থ হলেই গ্রেফতার করা হবে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইকোপার্কের কাছেই বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল এক সাইকেল চালকের। বাইকে চালকের আসনে এক যুবক ও পিছনে দুই তরুণী ছিলেন। তিনজনেরই হেলমেট ছিল না! গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাংলা গেট থেকে বলাকার দিকে যাওয়ার মূল রাস্তার উপর বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল এক বৃদ্ধের। তিনি রাস্তা পার করছিলেন। বাইক চালক ছিল কলেজ পড়ুয়া। সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়া, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাংলা গেটের সামনেই সরকারি বাসের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছিল এক আইটিকর্মীর। তিনি স্কুটারে করে অফিসে যাচ্ছিলেন। এই চারটি দুর্ঘটনার তিনটিই ঘটে বাইকের ধাক্কায়।
শুধু অন্যকে ধাক্কা নয়। নিজেরাও দুর্ঘটনায় পড়ে নিউটাউনে মারা গিয়েছেন বেশ কয়েকজন বাইক চালক এবং আরোহী। চলতি বছরের শুরুতে একটি বাইকে তিনজন বেরিয়েছিলেন। কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। ডিভাইডারে ধাক্কা দিয়ে আছড়ে পড়ে আইটিকর্মী তরুণীর মৃত্যু হয়েছিল। জানুয়ারিতেই ইকোপার্ক-২ নম্বর গেটের সামনে দুর্ঘটনায় পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক বাইক চালক তরুণীর। গত এপ্রিলে সেন্ট্রাল মলের পিছনে দুর্ঘটনায় পড়ে এক বাইক চালক আইটি কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, বাইক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ কর্মসূচিতে লাগাতার সচেতন করা হচ্ছে। আমরা সবাইকে বলছি, ট্রাফিক আইন ও গতি মেনে গাড়ি-বাইক চালান। তবে মানুষ কতটা মেনে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই!